কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও জীবিকা টেকসই করার লক্ষ্যে গৃহপালিত পশু (ভেড়া) বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’।
সংস্থাটির অ্যাসিস্টেড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা সদরের ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের উপকারভোগীদের মাঝে প্রথম ধাপে ৩০টি ভেড়া বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে সদর, চিলমারী ও রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে মোট ৪২০টি ভেড়া বিতরণ করা হবে।
বিতরণের আগে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রতিটি ভেড়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কেবল সুস্থ ও রোগমুক্ত ভেড়াগুলোই উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ফ্রেন্ডশিপের কর্মকর্তারা জানান, চরাঞ্চলের পরিবেশ ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে ভেড়া পালন অত্যন্ত উপযোগী। এটি তুলনামূলক কম খরচে পালন করা যায় এবং দ্রুত বাচ্চা উৎপাদনের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে। ফলে ভেড়া পালন চরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই জীবিকার উৎস হতে পারে।
উপকারভোগী বুলবুলি বেগম তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘আমার তেমন কোনো সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই। ভেড়া পেয়ে মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। যত্ন করে এগুলো পালন করব। আশা করি, বাচ্চা হলে পরিবারের আয় বাড়বে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জীবিকা উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেড়া পালনের মাধ্যমে পরিবারগুলোর অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রমে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
ফ্রেন্ডশিপের রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সাল থেকে সংস্থাটি চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা উন্নয়ন, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু-সহনশীল বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ভেড়া বিতরণের এই উদ্যোগ চরাঞ্চলীয় পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি ও জীবিকার বৈচিত্র্যকরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
ভেড়া বিতরণ অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়ক আব্দুস সালাম, মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জান্নাতুন নেছা জেবুসহ ফ্রেন্ডশিপের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত