মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

কুষ্টিয়ায় অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, দুই মাসে শনাক্ত ৫৪ রোগী



কুষ্টিয়ায় অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, দুই মাসে শনাক্ত ৫৪ রোগী
কুষ্টিয়ায় অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, দুই মাসে শনাক্ত ৫৪ রোগী

কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় আবারও বাড়ছে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ। গবাদিপশুর পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষও। গত দুই মাসে উপজেলায় ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ, কুষ্টিয়া। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ায় ২০১০ সাল থেকে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ দেখা যায়। মাঝে প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবারও এ রোগের বিস্তার দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

দৌলতপুরের হোসেনাবাদ মাঠপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলামের ১৮ মাস বয়সী শিশু নুসাইবাও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে শিশুটির শরীরে ছোট ছোট ফোসকা দেখা দেয়। পরে সেগুলো কালচে হয়ে বড় ক্ষতে পরিণত হয়। বর্তমানে ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে শিশুটি।

স্থানীয়রা জানান, অনেক ক্ষেত্রে গরু-ছাগল হঠাৎ জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শে এসে মানুষও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হচ্ছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সারা বছরই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নেন। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দৌলতপুরে নতুন করে ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শরীরে অস্বাভাবিক ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। আক্রান্ত পশুর মাংস কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া এবং অসুস্থ পশু সম্পর্কে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশু জবাই না করা, মাংস না খাওয়া, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং শরীরে ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুষ্টিয়ায় অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার, দুই মাসে শনাক্ত ৫৪ রোগী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় আবারও বাড়ছে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ। গবাদিপশুর পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষও। গত দুই মাসে উপজেলায় ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ, কুষ্টিয়া। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ায় ২০১০ সাল থেকে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ দেখা যায়। মাঝে প্রকোপ কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবারও এ রোগের বিস্তার দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

দৌলতপুরের হোসেনাবাদ মাঠপাড়া এলাকার নাজমুল ইসলামের ১৮ মাস বয়সী শিশু নুসাইবাও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে শিশুটির শরীরে ছোট ছোট ফোসকা দেখা দেয়। পরে সেগুলো কালচে হয়ে বড় ক্ষতে পরিণত হয়। বর্তমানে ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে শিশুটি।

স্থানীয়রা জানান, অনেক ক্ষেত্রে গরু-ছাগল হঠাৎ জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে। আক্রান্ত বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শে এসে মানুষও অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হচ্ছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সারা বছরই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নেন। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দৌলতপুরে নতুন করে ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। শরীরে অস্বাভাবিক ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। আক্রান্ত পশুর মাংস কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। রোগের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, গবাদিপশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া এবং অসুস্থ পশু সম্পর্কে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশু জবাই না করা, মাংস না খাওয়া, আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং শরীরে ফোসকা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream