মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সিরাজদিখানে ভূয়া সনদ দিয়ে গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন মসজিদের ইমাম



সিরাজদিখানে ভূয়া সনদ দিয়ে গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন মসজিদের ইমাম

‎মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রের শিক্ষক মো. হারুনুর রশীদের শিক্ষাগত সনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায় প্রায় ২০ বছর যাবৎ ভূয়া সনদ দিয়ে তিনি গন শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছেন।  

সনদ যাচাইয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা লিখিতভাবে জানিয়েছে, ২০০৪ সালের তাখমীল পরীক্ষার্থীদের তালিকায় ওই নামে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে উপস্থাপিত সনদটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়নি বলেও প্রত্যয়ন করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

‎জানা গেছে, সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর তাজপুর কাজীবাড়ী জামে মসজিদে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির বর্তমান কোড ৬৫৬। এ কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবে মো. হারুনুর রশীদ দায়িত্ব পালন করছেন।

‎গত ২৬ জুলাই মো. সিহাব উদ্দিন নামে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের এক শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে মো. হারুনুর রশীদের শিক্ষাগত সনদ যাচাই-বাছাইয়ের অনুরোধ করা হয়। অভিযোগে ভুয়া সনদ ব্যবহার করে তিনি গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও দাবি করা হয়।

অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার কাছে সনদটির সত্যতা যাচাই করে জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সাভারের রাজফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত আল-জামেয়াতুল মাদানিয়া মাদ্রাসা গত ২১ সেপ্টেম্বর লিখিত প্রত্যয়নপত্র দেয়।

মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত ওই প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, তাদের কাছে পাঠানো সার্টিফিকেটধারী মো. হারুনুর রশীদ, পিতা—হাশেম আলী খান, রোল নম্বর ৬৮০, শিক্ষাবর্ষ ২০০৪ ইং (১৪২৫ হিজরি)-এর নামে ২০০৪ সালের তাখমীলের ছাত্র তালিকায় কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। একই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, উপস্থাপিত সার্টিফিকেটটি আল-জামেয়াতুল মাদানিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রদান করা হয়নি।

‎এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবে মো. হারুনুর রশীদের যোগ্যতা ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সনদসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিরাজদিখান উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মো. ইস্রাফিল আহম্মেদ বলেন, “তদন্তের মাধ্যমে মো. হারুনুর রশীদের জাল সনদের সত্যতা পেয়েছি। আমি সে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি।”

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিরাজদিখানে ভূয়া সনদ দিয়ে গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন মসজিদের ইমাম

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

‎মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রের শিক্ষক মো. হারুনুর রশীদের শিক্ষাগত সনদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা যায় প্রায় ২০ বছর যাবৎ ভূয়া সনদ দিয়ে তিনি গন শিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছেন।  

সনদ যাচাইয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা লিখিতভাবে জানিয়েছে, ২০০৪ সালের তাখমীল পরীক্ষার্থীদের তালিকায় ওই নামে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে উপস্থাপিত সনদটি তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়নি বলেও প্রত্যয়ন করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

‎জানা গেছে, সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর তাজপুর কাজীবাড়ী জামে মসজিদে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির বর্তমান কোড ৬৫৬। এ কেন্দ্রের শিক্ষক হিসেবে মো. হারুনুর রশীদ দায়িত্ব পালন করছেন।

‎গত ২৬ জুলাই মো. সিহাব উদ্দিন নামে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের এক শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে মো. হারুনুর রশীদের শিক্ষাগত সনদ যাচাই-বাছাইয়ের অনুরোধ করা হয়। অভিযোগে ভুয়া সনদ ব্যবহার করে তিনি গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও দাবি করা হয়।

অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার কাছে সনদটির সত্যতা যাচাই করে জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সাভারের রাজফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত আল-জামেয়াতুল মাদানিয়া মাদ্রাসা গত ২১ সেপ্টেম্বর লিখিত প্রত্যয়নপত্র দেয়।

মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত ওই প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়, তাদের কাছে পাঠানো সার্টিফিকেটধারী মো. হারুনুর রশীদ, পিতা—হাশেম আলী খান, রোল নম্বর ৬৮০, শিক্ষাবর্ষ ২০০৪ ইং (১৪২৫ হিজরি)-এর নামে ২০০৪ সালের তাখমীলের ছাত্র তালিকায় কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। একই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, উপস্থাপিত সার্টিফিকেটটি আল-জামেয়াতুল মাদানিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রদান করা হয়নি।

‎এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক হিসেবে মো. হারুনুর রশীদের যোগ্যতা ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সনদসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিরাজদিখান উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার মো. ইস্রাফিল আহম্মেদ বলেন, “তদন্তের মাধ্যমে মো. হারুনুর রশীদের জাল সনদের সত্যতা পেয়েছি। আমি সে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি।”



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream