মৌলভীবাজারের রাজনগরে যুবদল নেতা রিপন আহমদকে সিএনজি অটোরিকশা চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রতিবাদে থানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা রাজনগর থানার সামনে মৌলভীবাজার-রাজনগর-সিলেট ও মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলনসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, রোববার রাজনগর উপজেলা সদরে বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে কলেজ পয়েন্ট এলাকায় যাওয়ার সময় টেংরা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা ও ব্যবসায়ী রিপন আহমদ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা রামিম আহমদ একটি গাড়ি তাঁদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন।
এরপর তাঁরা গাড়িটির পিছু নিয়ে গোবিন্দবাটি এলাকায় সেটির গতিরোধ করেন। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মৌলভীবাজারের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে। এ সময় রিপন আহমদের সঙ্গে তাঁদের অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিপন আহমদ ও রামিম আহমদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক রিপন আহমদ (৩০) রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ইলাশপুর গ্রামের মৃত আরফান মিয়ার ছেলে। রামিম আহমদ (১৮) একই গ্রামের মৃত সোহেল মিয়ার ছেলে।
পরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে তাঁদের মুচলেকায় ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়নি। পরদিন রিপন আহমদ ও রামিম আহমদকে একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। মামলাটি রাজনগর থানায় দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় রিপন আহমদকে চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রতিবাদে রাতে যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজনগর থানার সামনে জড়ো হন। তাঁরা রিপন আহমদকে চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে থানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের রাজনগর থানায় যান। তাঁর সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা আলোচনা করেন। পরে পুলিশ বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যান।
রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলন বলেন,‘যে দোষ করবে,তার শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু একজন ভালো মানুষকে চোর বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগে আটক করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।’
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। সিএনজি চুরি মামলায় তাঁদের আদালতে পাঠানোর বিষয়টি তিনি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
উল্লেখ্য,পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে শুনানি শেষে রিপন আহমদ ও রামিম আহমদের জামিন মঞ্জুর হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
মতামত