চকলেটের নাম শুনলেই সাধারণত আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকি বা ওজন বাড়ার কথা ভেবে থাকি। তবে ব্যতিক্রম হলো ‘ডার্ক চকলেট’। স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী এই ডার্ক চকলেট হার্ট ভালো রাখা থেকে শুরু করে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক গণমাধ্যম ‘ভ্যারি ওয়েল হেলথ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডার্ক চকলেটের সুফল পাওয়া অনেকাংশেই নির্ভর করে এটি দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে তার ওপর।
গবেষকদের মতে, সঠিক নিয়মে ও সঠিক সময়ে খেলে ডার্ক চকলেট শরীরের জন্য ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিকালের নাস্তায় ডার্ক চকলেট খাওয়া সবচেয়ে বেশি উপকারী। এতে থাকা ক্যাফেইন ও প্রাকৃতিক উদ্দীপক উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে।
অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ কোকোযুক্ত ডার্ক চকলেট পেটের উপকারি ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে অন্ত্রের মাইক্রোবায়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। পাশাপাশি কোকোতে থাকা 'পলিফেনলস' নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্ট্রেস কমিয়ে মেজাজ ফুরফুরে রাখতে সহায়তা করে।
ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সকালে ডার্ক চকলেট খাওয়া। সকালে ডার্ক চকলেট খেলে মিষ্টি জাতীয় অন্যান্য খাবারের প্রতি তীব্র লোভ ও অতিরিক্ত ক্ষুধা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে এটি গ্রহণ করেন তাদের কোমরের পরিধি ও খালি পেটে রক্তের শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম থাকে।
একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে নিয়মিত ডার্ক চকলেট খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে:
গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ও নিয়ম মেনে ডার্ক চকলেট গ্রহণ করেন, তাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকি ৩৭ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
ডার্ক চকলেটে থাকা কপার, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমায়, রক্তনালি শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বিপাকপ্রক্রিয়া ও শক্তি উৎপাদন উন্নত করে।
ডার্ক চকলেট স্বাস্থ্যকর হলেও তা খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অতিরিক্ত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খেলে এতে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালরির কারণে ওজন কমার বদলে উল্টো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মতামত