অফিসে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থতা কিংবা আকস্মিক ঢলে পড়ে অকাল মৃত্যুর খবর এখন দেশে নিত্যদিনের চিত্র। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের ৪২ বছর বয়সী কর্মকর্তা মুকসেমুল হাকিমের অফিসে কর্মরত অবস্থায় নিঃশব্দে স্ট্রোক করা এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা অসংক্রামক ব্যাধির ভয়ানক বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আইইডিসিআর (IEDCR)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধি (Non-Communicable Diseases - NCDs) বা দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগের কারণে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে যে ৭১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়, তার প্রায় অর্ধেকই ঘটে আকস্মিক বা অকাল (Premature Death) হিসেবে—অর্থাৎ ৭০ বছর বয়স হওয়ার পূর্বেই।
আইইডিসিআরের গবেষণাপত্র অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী প্রায় দেড় কোটি লোক নানা ধরনের অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
বিশ্বব্যাপী অসংক্রামক ব্যাধিতে অকাল মৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশই ঘটে বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।
জিনগত, পরিবেশগত, মানসিক ও আচরণগত জীবনযাত্রার সংমিশ্রণে অসংক্রামক রোগগুলো তৈরি হয়। বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত ৫টি মূল অসংক্রামক ব্যাধি ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো হলো:
হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ হওয়া, ঘাড় ও হাত-পায়ে অস্বাভাবিক ব্যথা, বমিভাব এবং মাথা ঝিমঝিম করা স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হলেও অনেকেই তা অলক্ষ্যে এড়িয়ে যান।
নীরব ঘাতক হিসেবে রক্তনালি ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো করে দেয়। বিলম্বে শনাক্ত হওয়ার কারণে নিরাময়ের সম্ভাবনা কমে যায়। ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) ও হাঁপানি।
আইইডিসিআরের গবেষণায় উঠে এসেছে মানসিক চাপ ও অবসাদও আকস্মিক মৃত্যুর বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের সময় ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় বা মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। অফিসে বা কাজের স্থানে প্রাথমিক লক্ষণ (যেমন—তীব্র ক্লান্তি, ঘাড়ে ব্যথা, বমিভাব ও মাথা ঘোরা) দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
মতামত