বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

ডোমারের মেহেদীর নতুন ঘর আর করা হলো না



ডোমারের মেহেদীর নতুন ঘর আর করা হলো না
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার বারিধারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মেহেদী হাসান মিম (২৪)। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, ঢাকায় কাজ করে টাকা এনে পুরোনো ঘরটি নতুন করে তৈরি করবেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

মেহেদী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার এরশাদুল হকের ছেলে। তিনি ডোমার সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের স্বজনদের ভাষ্য, মেহেদী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা করতেন।

গত সোমবার রাতে কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকার পথে রওনা দেন মেহেদী। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। পরে বিকেলে বারিধারার কে-ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাসার সামনে আসরের নামাজ শেষে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেদীর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে বিকেল ৩টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মেহেদীর মামাতো ভাই সাজ্জাদ চৌধুরী জয় জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন ছিলেন মেহেদী। প্রতি মাসে তিনি বাবা-মায়ের হাতে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা তুলে দিতেন। পরিবারের নিজস্ব আবাদি জমি নেই; শুধু বসতভিটাটুকুই রয়েছে।

স্বজনরা জানান, মেহেদীর ইচ্ছা ছিল ঢাকায় কাজ করে টাকা জমিয়ে বাড়ির পুরোনো ঘরটি নতুন করে তৈরি করবেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে সেই স্বপ্নের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মিনু বেগম।

মেহেদী শ্রমজীবী হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কাজেও দক্ষ ছিলেন। কাগজের ফুলসহ নানা ধরনের শৈল্পিক কাজ তৈরি করতেন তিনি। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডোমারের মেহেদীর নতুন ঘর আর করা হলো না

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকার বারিধারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মেহেদী হাসান মিম (২৪)। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, ঢাকায় কাজ করে টাকা এনে পুরোনো ঘরটি নতুন করে তৈরি করবেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

মেহেদী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার এরশাদুল হকের ছেলে। তিনি ডোমার সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের স্বজনদের ভাষ্য, মেহেদী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা করতেন।

গত সোমবার রাতে কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকার পথে রওনা দেন মেহেদী। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। পরে বিকেলে বারিধারার কে-ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাসার সামনে আসরের নামাজ শেষে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেহেদীর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে বিকেল ৩টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মেহেদীর মামাতো ভাই সাজ্জাদ চৌধুরী জয় জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজন ছিলেন মেহেদী। প্রতি মাসে তিনি বাবা-মায়ের হাতে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা তুলে দিতেন। পরিবারের নিজস্ব আবাদি জমি নেই; শুধু বসতভিটাটুকুই রয়েছে।

স্বজনরা জানান, মেহেদীর ইচ্ছা ছিল ঢাকায় কাজ করে টাকা জমিয়ে বাড়ির পুরোনো ঘরটি নতুন করে তৈরি করবেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে সেই স্বপ্নের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মিনু বেগম।

মেহেদী শ্রমজীবী হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল কাজেও দক্ষ ছিলেন। কাগজের ফুলসহ নানা ধরনের শৈল্পিক কাজ তৈরি করতেন তিনি। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream