রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত: পুলিশ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত: পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

শনিবার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে। পরে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বেশির ভাগ রহস্যই উন্মোচিত হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। তবে হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, রোববার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনা তুলে ধরা হবে। এর আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে কোনো চক্রের বিরোধের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এরই মধ্যে অপ্রতিমকে ছবি তোলার কথা বলে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি, পিবিআই ও এসআরবির সদস্যরা তদন্তে কাজ করছেন।

অপ্রতিমের পরিবার কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় মাদক সেবনের সময় সালমানপুর এলাকার আট কিশোরকে শিক্ষার্থীরা আটক করেন। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগমের মাধ্যমে তাদের পুলিশে দেওয়া হয়। ওই সময় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে মিলন ও আল আমিনের নামও আলোচনায় আসে। এ ঘটনার জেরে কোনো কিশোর গ্যাং বা মাদকচক্র নাহিদা বেগমের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার ছবি তোলার কথা বলে তুহিন নামে এক কিশোর অপ্রতিমকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আনাছসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার সঙ্গে থাকা আইফোন ও মানিব্যাগও নিয়ে নেওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিনকে আটক করেছে পুলিশ।

অপ্রতিমের হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা দেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজ হওয়ার পর অপ্রতিমকে উদ্ধারে পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, তার একমাত্র সন্তানকে কেন হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না। হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অপ্রতিম হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত: পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

শনিবার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে। পরে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বেশির ভাগ রহস্যই উন্মোচিত হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। তবে হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, রোববার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনা তুলে ধরা হবে। এর আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।


অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে কোনো চক্রের বিরোধের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এরই মধ্যে অপ্রতিমকে ছবি তোলার কথা বলে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি, পিবিআই ও এসআরবির সদস্যরা তদন্তে কাজ করছেন।

অপ্রতিমের পরিবার কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় মাদক সেবনের সময় সালমানপুর এলাকার আট কিশোরকে শিক্ষার্থীরা আটক করেন। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগমের মাধ্যমে তাদের পুলিশে দেওয়া হয়। ওই সময় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে মিলন ও আল আমিনের নামও আলোচনায় আসে। এ ঘটনার জেরে কোনো কিশোর গ্যাং বা মাদকচক্র নাহিদা বেগমের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার ছবি তোলার কথা বলে তুহিন নামে এক কিশোর অপ্রতিমকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আনাছসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার সঙ্গে থাকা আইফোন ও মানিব্যাগও নিয়ে নেওয়া হয় বলে সূত্রের দাবি।

শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিনকে আটক করেছে পুলিশ।

অপ্রতিমের হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা দেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।


এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজ হওয়ার পর অপ্রতিমকে উদ্ধারে পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, তার একমাত্র সন্তানকে কেন হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি এখনো কিছু জানেন না। হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream