সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলেও কয়েকটি ভাতার হার কমানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাড়া ও বাংলা নববর্ষ ভাতা। পাশাপাশি উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারও কমানো হচ্ছে। তবে মূল বেতন বৃদ্ধির কারণে কম হারে হিসাব হলেও এসব ভাতায় পাওয়া টাকার পরিমাণ আগের তুলনায় বাড়তে পারে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে বেতন বৃদ্ধির পুরো সুবিধা একবারে দেওয়া হবে না; ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এ হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার উপজেলায় বর্তমানে বাড়ি ভাতা মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় তা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভারের বাইরে কর্মরতদের বাড়ি ভাড়া বর্তমানে মূল বেতনের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় এ হার ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থাৎ শতাংশের হিসাবে বাড়ি ভাতা কমলেও মূল বেতন বাড়ায় চাকরিজীবীরা প্রকৃত টাকার হিসাবে আগের তুলনায় বেশি বাড়ি ভাতা পেতে পারেন।
বাংলা নববর্ষ ভাতার হারও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ ভাতা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় তা ১৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
তবে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই রাখা হচ্ছে। পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চর ভাতার হারও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষাসহায়ক, কার্যভার, আপ্যায়ন, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব এবং শ্রান্তি-বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার ও পরিমাণ অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন কাঠামোয় উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ হার বহাল থাকবে।
তবে পঞ্চম গ্রেডে ইনক্রিমেন্ট হবে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
মতামত