দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘ঐক্যতেই শক্তি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে পারলে জনগণও আপনাদের পাশে থাকবে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর কুঁচদহ ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার ও দলকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, একটি লাঠি সহজেই ভেঙে ফেলা যায়। কিন্তু অনেকগুলো লাঠি একসঙ্গে বাঁধা থাকলে তা ভাঙা কঠিন। ঠিক তেমনি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই আমাদের দুর্বল করতে পারবে না। তাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও দ্বন্দ্ব পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু সভা-সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই হবে না। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যেতে হবে। বিশেষ করে যেসব মা-বোন এখনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ, বিনয়ী ব্যবহার ও আন্তরিক কথাবার্তার মাধ্যমে তাদের মন জয় করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে। তাই ভুল-ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারাও প্রয়োজনের সময়ে পাশে থাকবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আদিবাসী, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান কিংবা সাঁওতাল—পরিচয় ভিন্ন হলেও আমরা সবাই মানুষ। সবার রক্তের রং একই। তাই ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখেই সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কারও জায়গা দখল করা, অন্যের প্রতি হিংসা পোষণ করা বা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখে বসবাস করতে হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় জনগণের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন কি না, শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পাঠদান পাচ্ছে কি না—এসব বিষয় শুধু প্রশাসনের দেখার বিষয় নয়; অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, সন্তানরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থানীয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
সভা শেষে নেতাকর্মীরা দলীয় ঐক্য অটুট রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও জনসম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মতামত