রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

আইফোন ছাড়াও অপ্রতিমকে হত্যার আরও যেসব কারণ জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

আইফোন ছাড়াও অপ্রতিমকে হত্যার আরও যেসব কারণ জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ছিল না বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তার দাবি, অপ্রতিম ও আটক তুহিনের মধ্যে আগে থেকেই কিছুটা বিরোধ ছিল। সেই বিরোধসহ কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তুহিন অপ্রতিমকে ডেকে নেওয়ার পরই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

কুমিল্লার কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তদন্তকারীরা মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা অপ্রতিমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এই ঘটনায় জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তসংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিমকে তুহিনের সঙ্গে দেখা করতে দেখা যায়। অপ্রতিমের মুঠোফোনেও তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তুহিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তখনও তদন্তাধীন ছিল।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অপ্রতিম ও তুহিন একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। তাদের মধ্যে আগে থেকেই কিছুটা বিরোধ ছিল। ওই বিরোধসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ঘটনার দিন তুহিন অপ্রতিমকে ডেকে নেয়। এরপরই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রাথমিক তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণে অপ্রতিমকে আইফোনের জন্য হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এমন বিষয় অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।

এর আগে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। তার বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি এবং মাথায় ক্যাপ ছিল। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভিতেও অপ্রতিমকে ওই কিশোরের সঙ্গে যেতে দেখা যায়।

পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ওই কিশোরের পরিচয় জানার চেষ্টা করে প্রক্টরিয়াল টিম। এমনকি লাশ উদ্ধারের আগেই সদস্যরা তার বাড়িতেও যান। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ী এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ৮টার দিকে সালমানপুর এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের মায়ের আইফোন উদ্ধার করা হয়।

অনুসন্ধানে তুহিনের বিরুদ্ধে টাকা ও মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ও তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের ২৬ এপ্রিল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোহাগ নামে এক ব্যক্তির পূর্বপরিচিত ছিলেন তুহিন। গত ২৭ মার্চ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার সিটি বাইক থেকে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। পরে তুহিন মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মো. তুহিন হোসেনের বাড়ি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আইফোন ছাড়াও অপ্রতিমকে হত্যার আরও যেসব কারণ জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ছিল না বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। তার দাবি, অপ্রতিম ও আটক তুহিনের মধ্যে আগে থেকেই কিছুটা বিরোধ ছিল। সেই বিরোধসহ কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তুহিন অপ্রতিমকে ডেকে নেওয়ার পরই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

কুমিল্লার কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তদন্তকারীরা মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা অপ্রতিমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এই ঘটনায় জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তসংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিমকে তুহিনের সঙ্গে দেখা করতে দেখা যায়। অপ্রতিমের মুঠোফোনেও তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তুহিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তখনও তদন্তাধীন ছিল।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অপ্রতিম ও তুহিন একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। তাদের মধ্যে আগে থেকেই কিছুটা বিরোধ ছিল। ওই বিরোধসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ঘটনার দিন তুহিন অপ্রতিমকে ডেকে নেয়। এরপরই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রাথমিক তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণে অপ্রতিমকে আইফোনের জন্য হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এমন বিষয় অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।

এর আগে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। তার বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি এবং মাথায় ক্যাপ ছিল। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভিতেও অপ্রতিমকে ওই কিশোরের সঙ্গে যেতে দেখা যায়।

পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ওই কিশোরের পরিচয় জানার চেষ্টা করে প্রক্টরিয়াল টিম। এমনকি লাশ উদ্ধারের আগেই সদস্যরা তার বাড়িতেও যান। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ী এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ৮টার দিকে সালমানপুর এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের মায়ের আইফোন উদ্ধার করা হয়।

অনুসন্ধানে তুহিনের বিরুদ্ধে টাকা ও মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ও তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের ২৬ এপ্রিল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোহাগ নামে এক ব্যক্তির পূর্বপরিচিত ছিলেন তুহিন। গত ২৭ মার্চ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার সিটি বাইক থেকে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। পরে তুহিন মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মো. তুহিন হোসেনের বাড়ি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream