রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট থাকলেও ভালো হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট থাকলেও ভালো হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ধনী আইনজীবী হওয়ার সহজ বা শর্টকাট পথ থাকলেও একজন দক্ষ ও ভালো আইনজীবী হতে নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘ল ফেস্ট’-এ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দ্রুত অর্থবান হওয়ার কিছু অনৈতিক পথ থাকলেও প্রকৃত অর্থে সফল আইনজীবী হতে হলে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে। তার ভাষায়, ‘ফিক্সিং অ্যান্ড ফক্সিং’ করে ধনী হওয়া সম্ভব হলেও ভালো আইনজীবী হওয়ার জন্য পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।

আইনজীবীদের সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে নিয়মিত পরিবর্তন ও নানা ধরনের ভাঙাগড়া চলে। এ অবস্থায় আইনি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আইনজীবীরা সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। ফলে আদালতে তাদের প্রতিটি বক্তব্য ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

আইন পেশার সঙ্গে চিকিৎসা পেশার তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসায় নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে পারেন। কিন্তু আইনজীবীকে আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিচারক, মক্কেল, প্রতিপক্ষের আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। তাই আইন সঠিকভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের দায়িত্বও আইনজীবীর।

নিজের পেশাজীবনের শুরুর সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক আইনজীবীকেই দীর্ঘ সময় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হয়। তবে ধীরে ধীরে পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব, যখন একজন আইনজীবীর উপস্থিতিই পেশাগত সাফল্যের বড় ভিত্তি হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে নিজের সিনিয়রের সঙ্গে করসংক্রান্ত মামলায় কাজ করার অভিজ্ঞতাও শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

আইন পেশায় দক্ষতা ও সততা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, পেশাজীবনে নানা ধরনের প্রলোভন আসতে পারে। তবে সব পরিস্থিতিতে সত্য ও নৈতিকতার পথে থাকতে হবে। কারণ আইনজীবী একই সঙ্গে মক্কেলের রক্ষক এবং আদালতের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

আইন সংস্কারে তরুণদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত কোনো আইনে অসঙ্গতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে হলে শিক্ষার্থীরা আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব ও খসড়া পাঠাতে পারেন। এসব প্রস্তাব সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।

দেশের পরিবর্তনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধনী আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট থাকলেও ভালো হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই: আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ধনী আইনজীবী হওয়ার সহজ বা শর্টকাট পথ থাকলেও একজন দক্ষ ও ভালো আইনজীবী হতে নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘ল ফেস্ট’-এ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, দ্রুত অর্থবান হওয়ার কিছু অনৈতিক পথ থাকলেও প্রকৃত অর্থে সফল আইনজীবী হতে হলে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে। তার ভাষায়, ‘ফিক্সিং অ্যান্ড ফক্সিং’ করে ধনী হওয়া সম্ভব হলেও ভালো আইনজীবী হওয়ার জন্য পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।

আইনজীবীদের সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে নিয়মিত পরিবর্তন ও নানা ধরনের ভাঙাগড়া চলে। এ অবস্থায় আইনি পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আইনজীবীরা সমাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। ফলে আদালতে তাদের প্রতিটি বক্তব্য ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

আইন পেশার সঙ্গে চিকিৎসা পেশার তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসায় নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে পারেন। কিন্তু আইনজীবীকে আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিচারক, মক্কেল, প্রতিপক্ষের আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। তাই আইন সঠিকভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের দায়িত্বও আইনজীবীর।

নিজের পেশাজীবনের শুরুর সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক আইনজীবীকেই দীর্ঘ সময় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হয়। তবে ধীরে ধীরে পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব, যখন একজন আইনজীবীর উপস্থিতিই পেশাগত সাফল্যের বড় ভিত্তি হয়ে ওঠে। এ প্রসঙ্গে নিজের সিনিয়রের সঙ্গে করসংক্রান্ত মামলায় কাজ করার অভিজ্ঞতাও শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

আইন পেশায় দক্ষতা ও সততা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, পেশাজীবনে নানা ধরনের প্রলোভন আসতে পারে। তবে সব পরিস্থিতিতে সত্য ও নৈতিকতার পথে থাকতে হবে। কারণ আইনজীবী একই সঙ্গে মক্কেলের রক্ষক এবং আদালতের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

আইন সংস্কারে তরুণদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত কোনো আইনে অসঙ্গতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে হলে শিক্ষার্থীরা আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব ও খসড়া পাঠাতে পারেন। এসব প্রস্তাব সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।

দেশের পরিবর্তনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream