রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

মানবতাবিরোধী অপরাধ

ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল ৫০০ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করে। রায়টির বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

এর আগে গত ৩০ জুন ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছরই কারাগারে থাকতে হবে তাকে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে ইনুর দায় প্রমাণিত হয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে আহত করা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগেও তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরেক অভিযোগে ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ততার দায়ে একই মেয়াদের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে উল্লেখ করেন। আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়।

এ ছাড়া ১৯ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই বৈঠকে ইনুর উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তার ভূমিকার অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণিত না হওয়ায় এ অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরির উদ্যোগ এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র, ছত্রীসেনা ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকেও তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনসহ আন্দোলনকারীদের হত্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল ইনুর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যা ও ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে এ অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।

এদিকে ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকাকালে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে পৃথক মামলায়ও বিচারপ্রক্রিয়

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জুলাই আন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল ৫০০ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করে। রায়টির বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।

এর আগে গত ৩০ জুন ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছরই কারাগারে থাকতে হবে তাকে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে ইনুর দায় প্রমাণিত হয়েছে। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে আহত করা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগেও তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরেক অভিযোগে ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ততার দায়ে একই মেয়াদের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে উল্লেখ করেন। আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়।

এ ছাড়া ১৯ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ওই বৈঠকে ইনুর উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তার ভূমিকার অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণিত না হওয়ায় এ অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরির উদ্যোগ এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র, ছত্রীসেনা ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকেও তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনসহ আন্দোলনকারীদের হত্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল ইনুর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যা ও ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে এ অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।

এদিকে ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকাকালে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে পৃথক মামলায়ও বিচারপ্রক্রিয়


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream