সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করেছে সরকার। ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নের বিধান দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ জারি করা হয়।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। এতে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের জন্য নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। আর সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ২০তম গ্রেডে নতুন বেতনস্কেল শুরু হবে ২০ হাজার টাকা থেকে। ধাপে ধাপে এ বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত হবে।
তবে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত বেতন ও বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন। একই সময়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে এ পার্থক্যের ৫০ শতাংশ বর্তমান বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৭৫ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।
আদেশে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন সরকারি কর্মচারীরা বকেয়া হিসেবে পাবেন। একইভাবে অবসরপ্রাপ্ত ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য নতুন পেনশন কাঠামো অনুযায়ী বকেয়া পাওনার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আদেশে মূল বেতনের পাশাপাশি পেনশন, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ও বিশেষ ভাতার বিষয়েও বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিশেষ বা ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনলাইনে iBAS++ ও Pay Fixation ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বেতন নির্ধারণ করবেন। পরে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস তা যাচাই করে অনুমোদন করবে।
নতুন আদেশ জারির মাধ্যমে এর আগে কার্যকর থাকা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ রহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
মতামত