অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের নতুন নাটক ‘আপন পর’-এ মায়ের মমতা, ভালোবাসা ও সমাদর পাওয়ার জন্য একজন সন্তান কতটা দূর যেতে পারে, মায়ের ভালোবাসার জন্য কতখানি ত্যাগ স্বীকার করা সম্ভব, এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। এতে অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। সম্পর্কের নতুন এক গল্প নিয়ে নাটকটির চিত্রনাট্য লিখেছেন মেজবাহ উদ্দিন সুমন। পরিচালনা করেছেন রুবেল হাসান।
নাটকে তৌসিফ মাহবুব অভিনয় করেছেন রিফাত চরিত্রে। ছোটবেলা থেকেই তীব্র মাতৃস্নেহের অভাব বোধ করে সে। বিশেষ করে সৎমায়ের ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে তার মধ্যে বাড়তে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়ের ‘আপন’ ছেলের মতো সমাদর না পাওয়ার আক্ষেপ তাকে মানসিকভাবে নিঃস্ব করে রাখে। একপর্যায়ে মায়ের একটি চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রিফাত।
নাটকে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজরী বরকতুল্লাহ। দীর্ঘদিন পর এই কৃতি অভিনেত্রীকে পর্দায় দেখে উচ্ছ্বসিত তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরাও।
প্রকাশের পর দর্শকের মধ্যেও বেশ সাড়া ফেলেছে নাটকটি। তিন দিনে ‘আপন পর’ দেখেছেন ৮২ লাখের বেশি দর্শক। নাটকটি দেখে অনেকেই নিজেদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার সঙ্গে গল্পের মিল খুঁজে পেয়েছেন। কেউ জানিয়েছেন, নাটকটি দেখতে গিয়ে অজান্তেই চোখে পানি চলে এসেছে। কেউ আবার সৎ মা ও ছেলের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে।
মো. পাশা নামে একজন দর্শক লিখেছেন, ‘১৩ বছর বয়সে আমাকে ফেলে চলে গেলেন আমার মা। এখন আমার বয়স ৪২। একই শহরে থাকেন আমার মা, কিন্তু একটিবারের জন্যও কথা বলেন না। আমি এই বুড়ো বয়সেও আমার মায়ের জন্য চোখের পানি ফেলি। আমার নীরব কান্না।’
রিফাত নামে আরেক দর্শক লিখেছেন, ‘আমার নাম রিফাত। মাকে হারিয়েছি ১৬ বছর বয়সে। এই নাটকের মতো মায়ের আদর, যত্ন, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। নিজের মায়ের মতো কখনো অন্য কেউ হয় না। মায়েরা বেঁচে থাকুক হাজার বছর।’
মাসুদ রানা নামে একজন লিখেছেন, ‘পরিচালক যতটা মেধাবী হলে এরকম পারিবারিক নাটক তৈরি করতে পারে। প্রত্যেকটা পয়েন্টে নিখুঁত উপস্থাপন। অভিনয়ও দারুণ। সব মিলিয়ে নাটকটি অসাধারণ।’
ফেরদৌস রুবেল লিখেছেন, ‘নাটকের শেষে মায়ের দায়িত্বটা খুব ভালো ভাবে পালন করলো। এটার কারণেই নাটকের পুর্নতা পেয়েছে।’
নাটকটি নিয়ে তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘‘আপন পর’ প্রকাশ্যের পর দর্শকের অনেক ভালোবাসা পাচ্ছি। সবাই অভিনয়ের প্রসংশা করছেন। প্রচুর মানুষ ফেসবুকে তাদের ভালোলাগার কথা জানাচ্ছে। আবার কেউ তাদের কষ্ঠের কথাও বলছেন, যা দেখে নিজেও কষ্ট পাচ্ছি। তবে ভালোলাছে এই ভেবে যে, আমার অভিনয় দর্শকের মনে ছাপ ফেলতে পেরেছে। একজন অভিনেতা হিসেবে এর থেকে স্বার্থকতা আর কিছু নেই।’
তৌসিফ-সাদনিমা জুটির পাশাপাশি নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজরী বরকতুল্লাহ, সাহেদ শরীফ খান, সাকিবা বিনতে আলী, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, আশরাফ টুলু, তামুর, অর্থ রাফি, তৌহিদুল ইসলাম তাইফ, রিপনসহ আরও অনেকে।
মতামত