এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের সরাসরি জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যবই চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩,০৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এতেই প্রশ্ন ওঠে—এত নম্বর কীভাবে বাড়ে? যে শিক্ষক-পরীক্ষকরা খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বই বিতরণের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দুর্নীতি জর্জরিত ও ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নিলেও সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে।”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত করা হবে। বাজার চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে কারিকুলাম সংস্কার, মানসম্মত শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও ক্লাসরুম মনিটরিং নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
এলএলবি (ল) কোর্সের বাড়তি ফরম পূরণ ফির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় টাকা আয়ের কারখানা নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি চালানো বন্ধ করতে হবে; অতিরিক্ত ফির সমস্যা সমাধান করা হবেই।”
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালু করা ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও সেরা ফলাফলের জন্য ৫৭ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে এই সম্মাননা ও শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
মতামত