বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাসের ধাক্কায় রাকুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী (ক্বারি) রেহানা বেগম (৪৫) মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। নিহত রেহানা বেগম ওই একই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নাসির উদ্দিনের স্ত্রী। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দ্বারিকা-শিকারপুর ব্রিজের ঢালে পশ্চিম রাকুদিয়া মাদ্রাসার সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সকালে রেহানা বেগম শিকারপুর ব্রিজের ঢাল এলাকায় রাস্তা পার হয়ে নিজ কর্মস্থল মাদ্রাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা কোম্পানির ‘আহনাফ পরিবহন’-এর একটি বেপরোয়া বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান। অন্য শিক্ষকেরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে নেমে এসে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, ঘাতক বাসের চালককে গ্রেপ্তার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে অবরোধ সৃষ্টি করে।
অবরোধের ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, ফলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে। পুলিশ লাবিবা কোম্পানির কয়েকটি বাস জব্দ ও আটক করলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বাবুগঞ্জ থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “দুর্ঘটনায় আহত নারী শিক্ষিকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘাতক বাস শনাক্তকরণসহ এ ঘটনায় মামলা ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মতামত