পটুয়াখালীর বাউফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা শাখার আট সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলের অভ্যন্তরে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আবদুল মালেক আনোয়ারীকে সভাপতি ও মো. নুরুল আমিনকে সাধারণ সম্পাদক করে বাউফল উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আট সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের একাংশের নেতাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে যারা ‘রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে’ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দুর্দিনে সংগঠনের হাল ধরেছেন, তাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত অযোগ্য ও অদক্ষ নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
দলের একাংশের নেতারা জানান, উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম টানা ১৪ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের দুর্দিনে তিনি সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ সময় তিনি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন বলেও নেতারা দাবি করেন।
তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নজরুল ইসলামকে দলীয়ভাবে অবমূল্যায়ন করা শুরু হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে।
বাউফল সদর ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, চাটুকারেরা দল শেষ করে দিয়েছে। যারা ১৭ বছর রাজপথে ছিল, তাদের মাইনাস করার মহোৎসব চলছে। গতকাল কমিটি গঠনের জন্য ভোট নেওয়া হলেও সেই ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। জেলা কমিটি নিজেদের মতো করে কমিটি গঠন করেছে।
তবে কমিটি নিয়ে নিজের কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ নেই বলে জানিয়েছেন সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি দলের প্রতি অনুগত ছিলাম, থাকব। কমিটি নিয়ে আমার কোনো ক্ষোভ নেই, কোনো অভিযোগও নেই। দুর্দিনে যখন কেউ দলের নেতৃত্ব নিতে চায়নি, তখন আমি নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের জন্য মাঠে ছিলাম। এখন সুদিন আসছে, আমাকে দলের প্রয়োজন নাও হতে পারে। এটা নিয়ে কোনো আপসোস নেই।
অন্যদিকে, কমিটি গঠনে কোনো ধরনের পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পটুয়াখালী জেলা ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। তাদের দাবি, শুরা অধিবেশনে উপজেলা কমিটি, সহযোগী সংগঠন, ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলেন, বাউফলে সর্বাধিক মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংগঠনের জন্য তার অনেক ত্যাগ রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়। এ কারণেই হয়তো দলীয় ফোরামে তার পক্ষে মতামত কম ছিল।
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন বলেন, দলীয় সংবিধান অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুরা সদস্যদের মতামত এবং হাইকমান্ড বিগত দিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই কমিটি ঘোষণা করেছেন।
জেলা ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আর আই এম অহিদুজ্জামান বলেন, ইসলামী আন্দোলন পীর সাহেব চরমোনাই হুজুরের দল। এ দলের প্রতি আমরা সবাই আনুগত্যশীল। একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে যাকে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তিনি দলের ত্যাগী নেতা এটা ঠিক। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তিনি দলের কার্যক্রম থেকে কিছুটা দূরে সরে পড়েছেন। সে কারণেই সভাপতি নির্বাচিত হতে পারেননি।
নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষের বিষয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনো নানা আলোচনা চলছে। তবে জেলা নেতাদের দাবি, সাংগঠনিক নিয়ম ও দলীয় ফোরামের মতামতের ভিত্তিতেই বাউফল উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মতামত