নীলফামারীর ডিমলা থানায় দায়িত্বরত চার কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর তাঁদের থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে প্রশাসনিকভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—কনস্টেবল মো. রমজান আলী (৪২০), মো. তালাত মাহমুদ, মো. শামীম ইসলাম ও মো. মশিউল হক।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিমলা সদর ইউনিয়নের ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ মোড় সংলগ্ন একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের তীর বাড়ির মালিক মোতাহার হোসেন সোহেলের দিকে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই বাড়িতে কয়েকজনের সন্দেহজনক উপস্থিতি দেখতে পান স্থানীয়রা। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাড়িটি ঘিরে ফেললে ভেতরে থাকা কয়েকজন সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে ডিমলা থানার কনস্টেবল মো. রমজান আলীকে স্থানীয়রা শনাক্ত করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে অভিযোগের বিষয়টি জেলা পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চার কনস্টেবলকে ডিমলা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাঁরা অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায় প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চার কনস্টেবলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে মাদক সেবনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মতামত