নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় ৪৫০ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনুমোদিত প্রাক্কলনে (Estimate) উল্লেখ থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইটেম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই সড়কের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে কাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নলছিটি পৌরসভার ৮ জুন ২০২৬ তারিখের রি-টেন্ডার নোটিশ সূত্রে জানা যায়, LGCRRP/Nalchity/2024-25/W-07 প্যাকেজের আওতায় পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে হাইওয়ে-সংলগ্ন আমিনুল ইসলাম তালুকদারের বাড়ি থেকে মিলন জোমাদ্দারের বাড়ি পর্যন্ত, আলমগীর তালুকদারের বাড়ি হয়ে চেইনেজ ০.০০ থেকে ৪৫০.০০ মিটার পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই প্যাকেজের টেন্ডার আইডি ১১৭৮২৬৭। নোটিশ অনুযায়ী, দরপত্র প্রকাশের তারিখ ৯ জুন এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২২ জুন ২০২৬।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে চলমান নির্মাণকাজের সঙ্গে প্রকল্পের অনুমোদিত প্রাক্কলনের বিভিন্ন বিষয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার সড়কের ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রাক্কলনে উল্লেখ থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা আইটেম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি নলছিটি পৌর প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সড়কটির স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঠিকাদারি কাজ হাতবদলের অভিযোগ
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কাজ পাওয়ার পর মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে অন্য ঠিকাদারদের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। একাধিকবার কাজ হাতবদলের কারণে নির্মাণকাজের গুণগত মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ছাড়া কাজটির তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা বলেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ নিম্নমানের হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের দাবি, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্পের অনুমোদিত প্রাক্কলন, টেন্ডার ডকুমেন্ট, কার্যাদেশ, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত কাজের পরিমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করে তারপর বিল পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নলছিটি পৌরভবনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেনকে পাওয়া যায়নি। সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাজটির তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
নলছিটি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু অভিযোগের বিষয়টি অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, “অভিযোগ পেয়ে আমি ওই প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এসে সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের অনুমতি দেওয়ার পর সড়কটির ঢালাই দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র যাচাই এবং সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
মতামত