দেশ বর্তমানে গুরুতর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ছয় মাসেও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার। এর ফলে শিল্পখাত বিশেষ করে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সম্প্রতি বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। উৎপাদন কমে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়বে এবং ঋণখেলাপির ঝুঁকি বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধীদলের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিমের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। তাঁর দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোকে লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংকট দেখা দেওয়ার পরই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল। বিরোধীদল সহযোগিতার চেষ্টা করলেও সরকার শুরুতে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি স্বীকারই করেনি।
এ সময় রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পর সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে এবং গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে। জনগণের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করার অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বগুড়ার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। একসময় শহরটি ‘মিনি শিল্পনগরী’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও স্বাধীনতার পর প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। বগুড়ার প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে জেলার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মতামত