মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়নের উত্তর জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আরাফাত আলী মনা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কোট রোড সড়কের রঘুনন্দনপুর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা,বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাওলানা মো. ফয়সল আহমদ হেলালী,ইয়াসিন আহমদ, শাবুউদ্দিন আহমদ,আলমাছ মিয়া,সুরুক মিয়া ও শফিক আহমদসহ স্থানীয়রা।
বক্তারা অভিযোগ করেন,আরাফাত আলী মনা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর কথিত মাদক কারবারের কারণে এলাকার যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়।
মানববন্ধন শেষে অভিযুক্ত আরাফাত আলী মনার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি আরাফাত আলী মনার বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে তাঁরা সেখানে মাদক সেবন ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পান বলে দাবি করা হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে প্রশাসনের লোকজন এলাকায় আসেন। তবে তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে আরাফাত আলী মনা সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, আরাফাত আলী মনা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে আটক করলেও পরে অদৃশ্য প্রভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা আশিক মিয়ার দুটি গরু চুরি করে জবাই করার এবং গরুর মাংসের একাংশ ফ্রিজে ও অন্য অংশ পাশের নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশে শাস্তি ও জরিমানা করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি,তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মানহানি ও অপদস্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আরাফাত আলী মনার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মতামত