মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে হাঁস শিকার করতে এসে দুইটি বনবিড়ালের বাচ্চা ধরা পড়েছে। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা বাচ্চা দুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার (০১:৩০) দিকে উপজেলার লাহারপুর এলাকায় আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সমর মোদকের বাড়ির হাঁসের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা বাইরে এসে তিনটি বনবিড়ালকে হাঁস শিকারের চেষ্টা করতে দেখেন। এ সময় তারা বনবিড়ালগুলো ধরার চেষ্টা করলে একটি মা বনবিড়াল পালিয়ে যায়। পরে দুটি বাচ্চা বনবিড়ালকে আটক করে রাখা হয়।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চা দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তারা বনবিড়াল দুটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, বনবিড়াল সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের তুলনায় কিছুটা বড় এবং কান খাড়া। এরা সাধারণত মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। তবে শ্রীমঙ্গলের শহরতলি ও ঝোপঝাড়যুক্ত এলাকায়ও মাঝে মাঝে এদের দেখা যায়।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, বনবিড়াল মূলত নিশাচর প্রাণী। গোধূলি ও ভোরের সময় এরা বেশি সক্রিয় থাকে। দিনের বেলায় ঘন ঝোপঝাড়,কাশবন বা অন্য প্রাণীর পরিত্যক্ত গর্তে আশ্রয় নেয়। এরা সাধারণত একাকী জীবনযাপন করে এবং প্রজননকাল ছাড়া দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে না।
তিনি আরও বলেন,বনবিড়ালের প্রধান খাদ্যের একটি বড় অংশ ইঁদুর। ইঁদুর ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খাওয়ার মাধ্যমে এরা কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়ায় খাবারের সন্ধানে কখনো কখনো এরা লোকালয়ে ঢুকে হাঁস-মুরগি শিকার করে।
মতামত