সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

জয়পুরহাটে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘ ৮ মাস পর তদন্ত



জয়পুরহাটে স্বাস্থ্য  কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘ ৮ মাস পর তদন্ত
ছবি বাংলা এফএম

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের আট মাস পর অবশেষে এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগে তিনি সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে সুবিধা দেওয়া, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এর আগে ওই দিনই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে ‘সাধারণ ঠিকাদার ও আক্কেলপুরবাসীর ব্যানারে’ মানব বন্ধন করেছিল স্থানীয়রা।

অভিযোগপত্রে ঠিকাদার এম কেরামত আলী উল্লেখ করেন, হাসপাতালের আসবাব কেনার একটি দরপত্রে তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও ইচ্ছেমতো ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয় এবং সাধারণ রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন ওই ঠিকাদার। তাঁর দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন তিনি।

এম কেরামত আলীর ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে পত্র জারি করে নওগাঁর সিভিল সার্জন কার্যালয়। কমিটিতে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলামকে সভাপতি, বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানাকে সদস্য এবং নওগাঁ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

জারিকৃত ওই পত্রে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে তদন্ত করবে। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী এম কেরামত আলীকেও তদন্তের সময় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী বলেন, হাসপাতালের আসবাব ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আইডি নং- ১১৪৭৫৪২ এ তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের পছন্দ মতো চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দিয়েছেন। একই ভাবে অন্যান্য দরপত্রেও নিজ ইচ্ছা মতো ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছেন। এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি তাঁর এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। আমরা দূর্নীতিবাজ ও কর্মকর্তার অপসারণ চাই।

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন ডা. আবু শফি মাহমুদ। বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, কেরামত আলী দরপত্রের শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাঁর দরপত্র বাতিল হয়েছিল। তিনি কাজ না পেয়ে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও নওগাঁ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জয়পুরহাটে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘ ৮ মাস পর তদন্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের আট মাস পর অবশেষে এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগে তিনি সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে সুবিধা দেওয়া, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এর আগে ওই দিনই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে ‘সাধারণ ঠিকাদার ও আক্কেলপুরবাসীর ব্যানারে’ মানব বন্ধন করেছিল স্থানীয়রা।

অভিযোগপত্রে ঠিকাদার এম কেরামত আলী উল্লেখ করেন, হাসপাতালের আসবাব কেনার একটি দরপত্রে তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও ইচ্ছেমতো ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয় এবং সাধারণ রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন ওই ঠিকাদার। তাঁর দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন তিনি।

এম কেরামত আলীর ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে পত্র জারি করে নওগাঁর সিভিল সার্জন কার্যালয়। কমিটিতে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলামকে সভাপতি, বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানাকে সদস্য এবং নওগাঁ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

জারিকৃত ওই পত্রে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে তদন্ত করবে। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী এম কেরামত আলীকেও তদন্তের সময় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী বলেন, হাসপাতালের আসবাব ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আইডি নং- ১১৪৭৫৪২ এ তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের পছন্দ মতো চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দিয়েছেন। একই ভাবে অন্যান্য দরপত্রেও নিজ ইচ্ছা মতো ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছেন। এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি তাঁর এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। আমরা দূর্নীতিবাজ ও কর্মকর্তার অপসারণ চাই।

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন ডা. আবু শফি মাহমুদ। বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, কেরামত আলী দরপত্রের শর্ত পূরণ করতে না পারায় তাঁর দরপত্র বাতিল হয়েছিল। তিনি কাজ না পেয়ে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও নওগাঁ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream