নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান সরকারসহ তার আরও দুই ভাই ও এক বোনের বিরুদ্ধে দোকান ঘর দখল করার অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভূয়া মালিকানা দাবি করে ভাড়াটিয়াকে দিয়ে নকল চুক্তিনামা তৈরির মাধ্যমে গায়ের জোরে এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে এখন নানাভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আর এক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করছেন সরকার দলীয় নেতারা।
এমন অভিযোগ তুলেছেন নীলফামারীর সোনারায় সংগলশী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ও সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়া নিবাসী ড. মশিউর রহমান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আ. মজিদ সড়কে কাপড় মার্কেটে নিজ দোকানে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংবাদ কর্মীদের কাছে বিষয়টা প্রকাশ করেন।
এসময় তিনি বলেন, আপনারা যে দোকান ঘরে বসে আছেন এটা মূলতঃ আমার স্ত্রী মাহমুদা বেগমের মালিকানাধীন ছিলো। আমার শ্বশুর মৃত মোজাম্মেল হক ও শ্বাশুড়ি মৃত আমেনা বেগমের ওয়ারিশ সূত্রে আমার স্ত্রী এটা পেয়েছেন। পরবর্তীতে আমার স্ত্রী দোকানঘরটি আমার নামে দলিল করে দেন এবং সে অনুযায়ী আমার নামেই খাজনা খারিজ ও পৌরসভার হোল্ডিংও সম্পন্ন হয়েছে। এরপর থেকে আমি দোকান ঘরটি ভাড়া দিয়ে নিয়মিত ভাড়ার টাকা আদায় করে আসছি।
কিন্তু আমার স্ত্রী গত বছর (২০২৫ সাল) ১০ অক্টোবর মারা যাওয়ার পর স্ত্রীর বড় ভাই সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আমিনুুর রহমান সরকার, মানিকুল ইসলাম, আকুলসহ বোন তাসলিমা এই দোকান ঘরে তাদের মালিকানা দাবি করে ভাড়াটিয়াকে ফুসলিয়ে নতুন চুক্তিপত্র সম্পাদন করে। পরে সেই সূত্র ধরে দখলে নেওয়ার পায়তারা শুরু করেন। দলীয় দাপটে ও পেশীর জোরে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করাসহ প্রাণ নাশের হুমকিও দেয়।
পরে এব্যাপারে কোন সুরাহা না পেয়ে ভাড়াটিয়াকে দোকান ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলি। কিন্তু এতে বাঁধা দিয়ে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে ঝামেলা বাঁধিয়ে দেয়। সরকার দলীয় এক নেতার সহযোগিতায় মব সৃষ্টি করার প্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পরে উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে আমার মালিকানা বুঝায়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার ভাড়াটিয়া তার পাওনাদি বুঝে নিয়ে দোকান ঘর খালি করে আমার কাছে হস্তান্তর করেছেন।
কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটা চক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অশুভ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক রং দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। মূলত: দোকান দখলে ব্যর্থ হয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগীরা নানা ধরনের অপপ্রচারে মেতেছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রকৃত বিষয় তুলে ধরার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। যাতে সঠিক তথ্য প্রকাশ করে সকল বিভ্রান্তি অপনোদন হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং বিচার দাবি করছি।
কারণ, আমার দোকান ঘর আমিই আমার আয়ত্তে নিয়েছি মাত্র। এখানে দখলবাজির কোন বিষয় নাই। সকলকে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশাসনসহ সচেতন মহলের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
মতামত