জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল নেতার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা আলোচনার ঝড় উঠেছে। তার পরিবার থেকেই বকশীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির যাত্রা শুরু। হয়রানি থেকে বাচাঁর জন্য আওয়ামীলীগের স্থানীয় এমপি ও নেতা কর্মীদের সাথেও তার ঘনিষ্টতা গড়ে উঠেছিলো। নজরুল সওদাগরের ভাই মানিক সওদাগর বর্তমানে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। আওয়ামীলীগের সাথে সর্ম্পক রেখে বিএনপির নিরাপত্তা প্রাচীর হিসেবে কাজ করেছে নজরুল ইসলাম সওদাগর। এমন তথ্য বিএনপি থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে।
সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর জানান, ১৯৮৯ সালে তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র থাকা কালিন বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ ছিলেন। নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনও করেছেন। ১৯৯১ সালে বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজ ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। ১৯৯২-১৯৯৩ ছাত্র সংসদে ছাত্র দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধর্মীয় সম্পাদক নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম সওদাগর। ১৯৯৪-১৯৯৫ ছাত্র সংসদে জাতয়তাবাদী ছাত্র দলের প্রার্থী হিসেবে বাষির্কী সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালে বকশীগঞ্জ উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। জাতীযতাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি হন ১৯৯৮ সালে। ২০০৩ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হন নজরুল ইসলাম সওদাগর।
গ্রুপ রাজনীতির কারনে ২০১৪ সালে বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন মানিক সওদাগর। সম্মেলন ঘিরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াও হয়েছে। ২০১৪ সম্মেলনে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার।
রউফ তালুকদার সভাপতি হওয়ার পর নজরুল ইসলাম সওদাগরের বড় ভাই মানিক সওদাগর, নজরুল ইসলাম সওদাগর ও বর্তমান পিপি আনিসুজ্জামান গামাসহ অনেক নেতা কর্মীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এর পর নানা প্রতিকুল পরিবেশে নজরুল ইসলাম সওদার আওয়ামীলীগের এমপি আবুল কালাম আজাদের সাথে ব্যাক্তিগত সর্ম্পক থেকে রাজনৈতিক সর্ম্পক গড়ে উঠে। এমপির সাথে ব্যাক্তিগত সর্ম্পক ও রাজনৈতিক সর্ম্পকের কারণেই বিএনপির নিরাপদ প্রাচীরে পরিনত হয় নজরুল ইসলাম সওদাগর। এর কারণে বকশীগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিএনপির নেতারা অনেক নিরাপদে থেকেই রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন। নজরুল ইসলাম সওদাগরের পরিবার থেকেই এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা থাকার পরেও নজরুল ইসলাম সওদাগর বকশীগঞ্জ পৌর মেয়র পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করে বকশীগঞ্জ পৌর সভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম সওদাগর।
আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন মানিক সওদাগর। আব্দুর রউফ তালুদার গ্রুপকে সমর্থন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবেক সচিব আব্দুল কাইয়ুম। মানিক সওদাগর গ্রুপকে সর্মথন দেন বর্তমান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সভাপতির পদ নিয়েই গ্রুপের সূত্রপাত হয়। শেষ পর্যন্ত মানিক সওদারই সভাপতির পদ পান। বিএনপির সভাপতির পদ না পেয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করে জামালপুর-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচন করে হেরে যান।
আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা হয়। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর পুলিশ ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ সময় কারাভোগের পর াাইনি লড়াই করে তিনি জামিন পান। জামিন পাওয়ার থেকেই তিনি বকশীগঞ্জ পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেন। নির্বাচনী তৎপরতাকে কেন্দ্র করে আলোচিত হয়ে উঠে নজরুল ইসলাম সওদাগর।
গুনজন ছড়িয়ে পড়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বড়ভাই মানিক সওদাগরের হাত ধরেই ঘরের চেলে ঘরে ফিরে যেতে পারেন নজরুল ইসলাম সওদাগর। ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকির আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম সওদাগরসহ ত্যাগি নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়ে একাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন। ভিন্ন সূরেও বক্তব্য দিয়েছেন কিছু বক্তা। আলোচনা-সমালোচনা যাই হউক নজরুল ইসলাম সওদাগর বর্তমানে টক অব দা বকশীঞ্জ।
এব্যাপারে নজরুল ইসলাম সওদার বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ইশ^ানিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ৩টি হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমি আগামীতে মেয়র নির্বাচন করবো। তাই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। ভোট দিবে সাধারণ জনগণ। আমাকে পছন্দ হলে ভোট দিবে। কিন্তু তারা নানাভাবে আমাকে হয়রানি করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে। তিনি বলেন, বকশীগঞ্জে উপজেলায় বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমার পরিবারে। আমার ঘরে। আমার পরিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠা থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। নানা প্রতিকুল পরিবেশেও আমার পরিবার বিএনপির হাল ছাড়েনি। যারা অপপ্রচার করছে তারা বিভিন্ন সময় ডিগবাজি দিয়ে বিএনপির ক্ষতি করেছে। কিন্তু আমার পরিবার তা করেনি। তিনি বলেন, আমার পরিবারের রাজনৈতিক ঠিকানা একমাত্র বিএনপি।
০১৭১৩৫২৩০১৮
মতামত