মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

বাউফলে মাটির কাজ বালু দিয়ে, বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


আবু রায়হান
আবু রায়হান উপজেলা প্রতিনিধি
| ফটো কার্ড

বাউফলে মাটির কাজ বালু দিয়ে, বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
বাউফলে মাটির কাজ বালু দিয়ে, বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় মাটির সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও সেখানে বালু দিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. মিতু বেগমের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রকল্পের বরাদ্দের বড় একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিতু বেগম।

অভিযোগের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের পোনাহুরা জয়নাল মৃধার বাড়ি থেকে কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোসা. মিতু বেগম কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

স্থানীয় বাসিন্দা, কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পোনাহুরা কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদে যাতায়াতের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। এতে মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. মিতু বেগমকে।

প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থের সড়কটি শ্রমিকের মাধ্যমে মাটি দিয়ে নির্মাণ করার কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ও প্রস্থও ঠিকভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি ৯ ফুট চওড়া করার কথা থাকলেও কোথাও ৫ ফুট, আবার কোথাও ৬ ফুট চওড়া করা হয়েছে। ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার সড়কের কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহারের কারণে নির্মাণের পরপরই বিভিন্ন স্থানে সড়কে ধস দেখা দিয়েছে। ফলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, এটি একটি মসজিদের রাস্তা। বছরের পর বছর দুর্ভোগের পর সড়কটির উন্নয়নে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মিতু বেগম ও তাঁর স্বামী নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেননি। মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে। বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী আবদুস সত্তার বলেন, মুসল্লিরা মসজিদে আসতে পারেন না। কোমরসমান কাদায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ঠিকমতো কাজ করা হয়নি। নীতিমালা অনুসরণ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এখন মসজিদের ফান্ডে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা টাকা চাই না, সড়কের কাজটি ঠিকমতো করা হোক।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোসা. মিতু বেগম বলেন, ‘কোথাও মাটি না পাওয়ায় বালু দিয়ে কাজ করেছি। বালু ঠিকমতোই দেওয়া হয়েছে। তবে বালু দুই পাশের কুয়ায় চলে গেছে।’ কাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ যেটুকু হয়েছে, ভালো হয়েছে। কিছু টাকা মসজিদে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাউফলে মাটির কাজ বালু দিয়ে, বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর বাউফলে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় মাটির সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও সেখানে বালু দিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. মিতু বেগমের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রকল্পের বরাদ্দের বড় একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিতু বেগম।

অভিযোগের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের পোনাহুরা জয়নাল মৃধার বাড়ি থেকে কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোসা. মিতু বেগম কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।

স্থানীয় বাসিন্দা, কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পোনাহুরা কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদে যাতায়াতের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। এতে মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. মিতু বেগমকে।

প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রস্থের সড়কটি শ্রমিকের মাধ্যমে মাটি দিয়ে নির্মাণ করার কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ও প্রস্থও ঠিকভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি ৯ ফুট চওড়া করার কথা থাকলেও কোথাও ৫ ফুট, আবার কোথাও ৬ ফুট চওড়া করা হয়েছে। ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পরিবর্তে প্রায় ৯০ মিটার সড়কের কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহারের কারণে নির্মাণের পরপরই বিভিন্ন স্থানে সড়কে ধস দেখা দিয়েছে। ফলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, এটি একটি মসজিদের রাস্তা। বছরের পর বছর দুর্ভোগের পর সড়কটির উন্নয়নে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মিতু বেগম ও তাঁর স্বামী নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেননি। মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকার কাজ করা হয়েছে। বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী আবদুস সত্তার বলেন, মুসল্লিরা মসজিদে আসতে পারেন না। কোমরসমান কাদায় তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ঠিকমতো কাজ করা হয়নি। নীতিমালা অনুসরণ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এখন মসজিদের ফান্ডে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা টাকা চাই না, সড়কের কাজটি ঠিকমতো করা হোক।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোসা. মিতু বেগম বলেন, ‘কোথাও মাটি না পাওয়ায় বালু দিয়ে কাজ করেছি। বালু ঠিকমতোই দেওয়া হয়েছে। তবে বালু দুই পাশের কুয়ায় চলে গেছে।’ কাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ যেটুকু হয়েছে, ভালো হয়েছে। কিছু টাকা মসজিদে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream