গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ। শিল্পকারখানাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় থাকা আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)। ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি গত আড়াই বছরে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও সর্বশেষ রোববার সরবরাহ নেমে এসেছে ৯১৫ মেগাওয়াটে।
পিডিবি সূত্র বলছে, আগস্টের শুরু থেকেই আদানির কাছ থেকে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ৭ আগস্ট ভোরেও সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এসেছিল। পরদিনই তা কমে প্রায় ৭৯০ মেগাওয়াটে নেমে যায়।
সরবরাহ স্বাভাবিক করতে চলতি মাসে আদানি গ্রুপকে তিন দফা চিঠি দিয়েছে পিডিবি। প্রতিবারই বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও কয়েক দিন পর আবার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কখনো কয়লা ভিজে যাওয়া, আবার কখনো কয়লা পরিবহণের রেলপথে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।
তবে পিডিবির দাবি, আদানির সঙ্গে কয়লার মূল্য নিয়ে একটি বিরোধ মধ্যস্থতার পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি নেই। গত মাসেও প্রতিষ্ঠানটিকে ৯ কোটি ডলারের বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।
এদিকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করতে না পারায় পিডিবির কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভারতে গিয়ে কেন্দ্রটি পরিদর্শনের সুযোগ না থাকায় কয়লা সরবরাহ বা উৎপাদন কমার কারণ সম্পর্কে আদানি যে তথ্য দিচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
দুই দেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রোববার দুপুরে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে লোডশেডিং ছিল প্রায় ৩ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট। জাতীয়ভাবে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও সরবরাহ মিলছে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট।
কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি আরও বেড়েছে। রামপাল, পায়রা, আরএনপিএল, এসএস পাওয়ার, মাতারবাড়ী ও বরিশালের কয়েকটি কেন্দ্রে বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি তেল কেনার জন্য রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কম উৎপাদন এবং আদানির কাছ থেকে প্রত্যাশিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় চলমান বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
মতামত