বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ দাবি


আনোয়ার মুরাদ
আনোয়ার মুরাদ প্রকাশক
| ফটো কার্ড

ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ দাবি

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্র প্রকাশ করেছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট।

সম্প্রতি ট্রাম্প তাঁর Truth Social অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি নীল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে লেখা হয়—‘NEW U.S. Territory’। এর আগে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার কথাও বলেছিলেন তিনি। হোয়াইট হাউস পরে ট্রাম্পের পোস্টটি এক্সে পুনঃপ্রকাশ করে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সরকারি ‘Iran in Hyderabad’ অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা হয়—‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই ধারণা সংশোধন করা হবে—অথবা ইরানই তা সংশোধন করবে।

ক্যালিফোর্নিয়াই কেন?

ইরানের এই প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী বড় ইরানি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর বিষয়টি জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি সম্প্রদায় রয়েছে।

ইউসিএলএর সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে আনুমানিক ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান বসবাস করেন। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায়ের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি সংস্কৃতি ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামেও পরিচিত।

হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা নতুন নয়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান জানিয়েছে।

তবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো পোস্টটি আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্তির ঘোষণা নয়। এটি মূলত ট্রাম্পের হরমুজ-সংক্রান্ত দাবির জবাবে দেওয়া ইরানের একটি রাজনৈতিক ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া।
হরমুজ নিয়ে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য কেবল কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ নয়; এর পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বড় হিসাব।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্র প্রকাশ করেছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের সরকারি একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট।

সম্প্রতি ট্রাম্প তাঁর Truth Social অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। সেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি নীল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে লেখা হয়—‘NEW U.S. Territory’। এর আগে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার কথাও বলেছিলেন তিনি। হোয়াইট হাউস পরে ট্রাম্পের পোস্টটি এক্সে পুনঃপ্রকাশ করে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সরকারি ‘Iran in Hyderabad’ অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা হয়—‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই ধারণা সংশোধন করা হবে—অথবা ইরানই তা সংশোধন করবে।

ক্যালিফোর্নিয়াই কেন?

ইরানের এই প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী বড় ইরানি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর বিষয়টি জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি সম্প্রদায় রয়েছে।

ইউসিএলএর সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে আনুমানিক ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান বসবাস করেন। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায়ের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি সংস্কৃতি ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামেও পরিচিত।

হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা নতুন নয়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান জানিয়েছে।

তবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো পোস্টটি আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্তির ঘোষণা নয়। এটি মূলত ট্রাম্পের হরমুজ-সংক্রান্ত দাবির জবাবে দেওয়া ইরানের একটি রাজনৈতিক ও ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া।
হরমুজ নিয়ে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য কেবল কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ নয়; এর পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বড় হিসাব।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream