মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আলোচিত সাবানা হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলার অপর দুই আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন;শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের নাসির মিয়া (২৬),বিল্লাল মিয়া (৩০),দুলাল মিয়া (২৬) ও গিয়াস মিয়া (২৫)। তাঁদের মধ্যে নাসির ও বিল্লাল আপন দুই ভাই। অন্যদিকে গিয়াস ও দুলাল নিহত সাবানার সৎভাই।
মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নম্বর ভুনবীর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লইয়ারকুল গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধ এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে সাবানাকে মারধর ও উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করে।
মামলায় নিহতের মা ও বাদী মায়া বেগমকে গুরুতর জখম করার দায়ে মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া সেলিনা বেগমকে আঘাত করার দায়ে জয়নাল আবেদীনকে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আবুল বাশার মিয়া,আলী ইসলাম,হাসি বেগম,জাভেদ মিয়া ও নাজমিন বেগমকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর তিন আসামি সুরুক মিয়া,রাজা মিয়া ও ফারুক মিয়ার মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম বাদ দেওয়া হয়।
মামলাটির দায়রা নম্বর ৪৪/২০১৭ এবং সিআর নম্বর ৯৬/১৬। মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করে।
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আব্দুল ওয়াহিদ এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী সানোয়ার হোসাইন দায়িত্ব পালন করেন।
রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদেরও কান্না ও আহাজারি করতে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় আদালত চত্বরে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মতামত