জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি বার্জিস শাবনাম বর্ষা ও তার প্রেমিক মো. মাহির রহমানের পক্ষে আইনজীবীরা সময় চেয়ে আবেদন করেন। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা এবং সিনিয়র আইনজীবীদের দেশের বাইরে অবস্থানের কারণ দেখিয়ে এ আবেদন করা হয়। পরে আদালত আসামিপক্ষকে শেষবারের মতো সময় দিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেন। এর আগে আরও দুই দফা অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছিল। মামলার তিন আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বুধবার শুনানির জন্য তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় এক ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে হত্যার শিকার হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন তিনি। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাকে পড়াতে যান জোবায়েদ। পরে ওই ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়িতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে বর্ষা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে জানান, জোবায়েদ স্যার খুন হয়েছেন। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মোবাইল ফোনে জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তারা সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের মরদেহ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে প্রায় নয় মাস পর গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এখন মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী ৮ নভেম্বর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মতামত