বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়কাল জুড়ে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যা, উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

রায়ে পলাতক চার আসামির প্রত্যেকের অর্ধেকেরও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগই আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে:

২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন এবং ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে সন্ত্রাসী ট্যাগ দিয়ে হত্যার নির্দেশ ও প্ররোচনা প্রদান।

২৭ জুলাই হানিফের নির্দেশে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী কার্যালয়ে বৈঠক ডেকে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ ও সশস্ত্র আক্রমণের নির্দেশ প্রদান।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে কুষ্টিয়া শহরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এ হামলায় আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ—এই ৬ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির আইনি সময়রেখা ছিল নিম্নরূপ:

২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়।

৮ ডিসেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়ে চলতি ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নতুন আলামত ও সাক্ষ্য নিয়ে পুনরায় শুনানির পর ৭ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হলে রায় অপেক্ষমাণ (CAV) রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন।

আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও গ্রেপ্তারের পর বা আইনানুগ আত্মসমর্পণের পরই তাদের সাজা কার্যকর করা হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়কাল জুড়ে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যা, উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

রায়ে পলাতক চার আসামির প্রত্যেকের অর্ধেকেরও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগই আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে:

২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন এবং ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে সন্ত্রাসী ট্যাগ দিয়ে হত্যার নির্দেশ ও প্ররোচনা প্রদান।

২৭ জুলাই হানিফের নির্দেশে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী কার্যালয়ে বৈঠক ডেকে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ ও সশস্ত্র আক্রমণের নির্দেশ প্রদান।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে কুষ্টিয়া শহরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এ হামলায় আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ—এই ৬ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির আইনি সময়রেখা ছিল নিম্নরূপ:

২০২৫ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরু হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়।

৮ ডিসেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়ে চলতি ২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নতুন আলামত ও সাক্ষ্য নিয়ে পুনরায় শুনানির পর ৭ অক্টোবর ২০২৬ যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হলে রায় অপেক্ষমাণ (CAV) রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন।

আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও গ্রেপ্তারের পর বা আইনানুগ আত্মসমর্পণের পরই তাদের সাজা কার্যকর করা হবে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream