বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

আইজিপিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হাসনাত আবদুল্লাহর


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আইজিপিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হাসনাত আবদুল্লাহর
আইজিপিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হাসনাত আবদুল্লাহর

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চান—এমন দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মুগদায় এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইজিপি বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে ধরে নিতে হবে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। আর তারেক রহমানের নির্দেশে এমন বক্তব্য না দিয়ে থাকলে, আইজিপিকে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে।

হাসনাতের অভিযোগ, আইজিপির মন্তব্যে পুরো পুলিশ বাহিনীকে অপমান করা হয়েছে। পুলিশ জনগণের বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও আইজিপি বাহিনীটিকে আবার লাঠিবাহিনী, ক্রসফায়ারের বাহিনী ও চাঁদাবাজদের বাহিনীতে পরিণত করতে চাইছেন।

পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রিয় পুলিশ ভাই-বোনেরা, আপনাদের অনুরোধ করব—এই আইজিপির কথা আপনাদের শোনার দরকার নেই। এই আইজিপি আসবে-যাবে। নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন। তাদের রক্ত ও পোশাক বিক্রি করে কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করেন। আমরা আহ্বান জানাব, আপনারা এই আইজিপির স্বার্থের বলি হবেন না এবং কোনো অবৈধ আদেশ মানবেন না। জনগণ যখন ঘুরে দাঁড়ায়, তখন লাঠি বা বারুদ দিয়ে জনতা ঠেকানো যায় না।

সমাবেশে আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, আইজিপির অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাসনাত বলেন, এ কেমন বাংলাদেশে এসে আমরা পড়লাম? যেখানে জনগণের ভয়, কোনো নিরাপত্তা নেই। পুলিশের নিরাপত্তা নেই, মন্ত্রীর নিরাপত্তা নেই। এটা আবার কেমন বাংলাদেশ, যেখানে মন্ত্রীরাও অস্ত্র নিয়ে বের হন, চাঁদাবাজরা অস্ত্র নিয়ে বের হয়, ডাকাতরা অস্ত্র নিয়ে বের হয়? প্রশ্ন আসে—চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরাই কি মন্ত্রী হয়েছে, নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছে? জনগণ আজ বিভ্রান্ত। রাত ৯টার পর ঢাকা শহরে কেউ আর বের হতে সাহস পায় না। বের হলে জামাকাপড় খুলে রেখে দেওয়া হয়। খুলনায় নিরাপত্তার অভাবে পুলিশও বের হতে ভয় পায়।

রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হলে তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মন্ত্রীদের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, মন্ত্রীরা যদি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা না রাখেন, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা কীভাবে তৈরি হবে? একইভাবে দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি তাদের আস্থার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে মুগদার বাসিন্দাদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে সমর্থন চান। তার দাবি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন। এ সময় তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জনতার প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগও তোলেন।

বিএনপির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ২০০৬ সালে বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ বাংলাদেশকে দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এর দায় বিএনপির ওপর বর্তায় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছাড়তে পারেনি এবং তাদের শাসনামলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সালাহউদ্দিনের পরামর্শে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে স্পিকারকে প্রধান করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেননি তিনি।

বিষয় : হাসনাত আবদুল্লাহ আইজিপি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


আইজিপিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান হাসনাত আবদুল্লাহর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চান—এমন দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মুগদায় এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ দাবি জানান।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইজিপিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইজিপি বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে ধরে নিতে হবে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। আর তারেক রহমানের নির্দেশে এমন বক্তব্য না দিয়ে থাকলে, আইজিপিকে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে।

হাসনাতের অভিযোগ, আইজিপির মন্তব্যে পুরো পুলিশ বাহিনীকে অপমান করা হয়েছে। পুলিশ জনগণের বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও আইজিপি বাহিনীটিকে আবার লাঠিবাহিনী, ক্রসফায়ারের বাহিনী ও চাঁদাবাজদের বাহিনীতে পরিণত করতে চাইছেন।

পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রিয় পুলিশ ভাই-বোনেরা, আপনাদের অনুরোধ করব—এই আইজিপির কথা আপনাদের শোনার দরকার নেই। এই আইজিপি আসবে-যাবে। নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন। তাদের রক্ত ও পোশাক বিক্রি করে কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করেন। আমরা আহ্বান জানাব, আপনারা এই আইজিপির স্বার্থের বলি হবেন না এবং কোনো অবৈধ আদেশ মানবেন না। জনগণ যখন ঘুরে দাঁড়ায়, তখন লাঠি বা বারুদ দিয়ে জনতা ঠেকানো যায় না।

সমাবেশে আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন এনসিপির এই নেতা। তার দাবি, আইজিপির অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাসনাত বলেন, এ কেমন বাংলাদেশে এসে আমরা পড়লাম? যেখানে জনগণের ভয়, কোনো নিরাপত্তা নেই। পুলিশের নিরাপত্তা নেই, মন্ত্রীর নিরাপত্তা নেই। এটা আবার কেমন বাংলাদেশ, যেখানে মন্ত্রীরাও অস্ত্র নিয়ে বের হন, চাঁদাবাজরা অস্ত্র নিয়ে বের হয়, ডাকাতরা অস্ত্র নিয়ে বের হয়? প্রশ্ন আসে—চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরাই কি মন্ত্রী হয়েছে, নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছে? জনগণ আজ বিভ্রান্ত। রাত ৯টার পর ঢাকা শহরে কেউ আর বের হতে সাহস পায় না। বের হলে জামাকাপড় খুলে রেখে দেওয়া হয়। খুলনায় নিরাপত্তার অভাবে পুলিশও বের হতে ভয় পায়।

রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হলে তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা, ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি পাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মন্ত্রীদের সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, মন্ত্রীরা যদি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা না রাখেন, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা কীভাবে তৈরি হবে? একইভাবে দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি তাদের আস্থার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে মুগদার বাসিন্দাদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে সমর্থন চান। তার দাবি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন। এ সময় তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জনতার প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগও তোলেন।

বিএনপির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ২০০৬ সালে বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ বাংলাদেশকে দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এর দায় বিএনপির ওপর বর্তায় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছাড়তে পারেনি এবং তাদের শাসনামলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সালাহউদ্দিনের পরামর্শে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে স্পিকারকে প্রধান করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেননি তিনি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream