দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তর্দেশীয় ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে জানা গেছে। রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর সময়সূচি চূড়ান্ত করতে শিগগিরই ভারতীয় রেলের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই ট্রেন চলাচল শুরুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস, ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি মিতালী এক্সপ্রেস এবং খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে এসব ট্রেন আর চলেনি।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রেন চালুর জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি রয়েছে। ভারতীয় পক্ষের চূড়ান্ত সম্মতি পাওয়া গেলেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। আগামী ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় দুই দেশের রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি আন্তর্দেশীয় রেল ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা ফের চালু হওয়ায় আন্তর্দেশীয় ট্রেন চালুর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। চিকিৎসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের কাছে ট্রেন তুলনামূলকভাবে কম খরচের ও আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেন যোগাযোগ পুনরায় চালু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিনের বন্ধ থাকা রেল যোগাযোগও দ্রুত পুনরায় চালু হবে।
মতামত