রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে আটকে পড়া ২ হাজার ৯ ৩৩ জন পর্যটককে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তা প্রহরায় পর্যটকদের বহনকারী যানবাহনগুলো সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখান থেকে তাদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে একই দিন সকাল ৬টার দিকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার এই উদ্ধারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানানোর পাশাপাশি অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার বিকেলে ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’র পক্ষ থেকে নতুন জয় চাকমা ও বাবুধন চাকমার যৌথ স্বাক্ষরে অনির্দিষ্টকালের এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সাজেক এলাকা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস - সন্তু লারমা গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের অপসারণ, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় অধিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতেই তারা এই আন্দোলনের ডাক দেন। অবশ্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ বহনকারী যান ও সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে একই দাবিতে প্রথম দফায় অবরোধ শুরু হলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। পূজা শেষে ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে নতুন করে আবারও অবরোধ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলো।
বারবার অবরোধ ও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে পড়ায় পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি ও কটেজ-পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত