পুরোনো ও প্রাচীন প্রবাদ," লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু, "-- এই প্রবাদ যেন কালজয়ী রূপে আবারও প্রমানিত হয়ে দেখা দিলো নওগাঁ জেলার সীমান্ত ঘেঁসা উপজেলা ধামুইরহাটের উত্তর দিকে ইক্ষু সেন্টারের পার্শ্ববর্তী গ্রাম " ছিলিমপুরে "। আপন আদরের ছোট ভাই, যাকে শিশু কালে কোলেপিঠে করে বড় করেছে সেই ছোট ভাই ও ভাবী সামান্য কানের ফুলের লোভের বশবর্তী হয়ে বনবোন কে নির্মম ও ভয়ানকভাবে খুন করে ধান ক্ষেতের আইলে ফেলে রেখেছ।
এই হৃদয়বিদারক লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় আতংক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পৃথিবী যেন থমকে গিয়েছিল সেই মুহূর্তে।
ছোট ভাই এবং ভাবীর লোভ এবং চক্রান্তে বড় বোন কে হত্যা করতে পারে, এ যেন একটা নতুন ক্লুলেস কিলার্স সিস্টেম চালুর ইঙ্গিত। প্রকাশ থাকে যে, নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার এক বৃদ্ধার ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য মামলা দায়েরের মাত্র একদিনের মধ্যেই উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫জন গ্রেফতার ও হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত রশি, ওড়না উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
আরও জানা যায় যে,গত ১৯ অক্টোবর সকাল আর ৮/৯ টার মধ্যেই পুলিশ সংবাদ পায় যে, ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামে জনৈক হালিমা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃতদেহ তার বসতবাড়ি হতে প্রায় ৩/৪ শ গজ দুরে বাঁশ ঝাড়ের নিচে জঙ্গলের পাশে ধান ক্ষেতের জমির আইলে পড়ে আছে। এই দূঃখজনক সংবাদটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং থানা থেকে পাওয়ার সঙ্গেই অফিসার ইনচার্জ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পত্নীতলা সার্কেলকে ঘটনাস্থলে দ্রুত যাওয়ার জন্য নির্দেশনা এলে পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হয় বৃদ্ধা মহিলা নির্মম ও ভয়ানক হত্যাকাণ্ডের শিকার। যার একটি কানের লতি কাটা ছিল অপর কানের লতি ছিঁড়া ছিল।
তাদের জিজ্ঞাসা বাদে পরবর্তীতে হত্যাকান্ডে অংশগ্রহনকারী আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম হতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী বা ঘাতক মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৯)
পিতা- মোঃ শহিদুল ইসলাম, সাং-বস্তাবর, থানা-ধামইরহাটকে তার নিজ বাড়ী হতে এবং হত্যাকান্ডে অংশগ্রহন করা তদন্তে প্রাপ্ত আরও ২ জন আসামী মোঃ হামিদুর রহমান (৫৫), ২। মোঃ মোশারফ হোসেন (৪৫) উভয় পিতা-মৃত ইসমাইল হোসেন, সাং-ছিলিমপুর, থানা-ধামইরহাটদ্বয় কে গ্রফতার করা হয়। এই হত্যা কান্ডে জরিত মোট ৫ খুনিকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পুলিশ সক্ষম হয়।
কানের দুল, গরু ও জমির লোভে আপন ছোট ভাই ও ভাবীর চক্রান্তে নির্মমভাবে খুন হতে হলো নিঃসন্তান বৃদ্ধা বড় বোনকে।
বিশেষভাবে প্রকাশ থাকে যে, গত ১৮ অক্টোবর রাতে ভাই মজনু ও ভাবী হোসনে আরার নির্দেশে স্থানীয় রবিউল, হামিদুর ও মোশারফ ঐ বৃদ্ধা বড়বোন কে ঘর থেকে বাইরে ডেকে খড়ের পালার পেছনে নিয়ে হাত বেঁধে ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে কানের দুল নিতে ঐ খুনিরা নির্মমতার পরিচয় দিতে ও ছাড়ে নি, ওরা ঐ বৃদ্ধার একটি কান কেটে ও অন্যটি ছিঁড়ে দুল নিয়ে নেয়। এই নির্মমতায় হতবাক হয়ে যায় এলাকা বাসী। সবারই উৎসুক ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ভরা প্রশ্ন, " এ কীভাবে সম্ভব-? আপন লোক দ্বারা --? "
পরদিন সকালে লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয়ের কঠোরতম নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নিহতের আপন ভাই মজনু, ভাবী হোসনে আরাসহ ৫ খুনিকেই পাকড়াও করে প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। পাকড়াওকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকারও করেছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত রশি ও ওড়না উদ্বারমূলে জব্দ করা হয়েছে।
সামান্য কর্নের দুল, গবাদি পশু, হয়তোবা কিছু টাকা- জমি যা কিনা ঐ বৃদ্ধার মৃত্যুর পর ওরাই পাবে, কেননা ঐ বৃদ্ধা তো নিঃসন্তান , অথচ ধৈর্যের আর সইলো না দেরি,মায়ের মতো বড় বোন কে নির্মম ভাবে হত্যা করলো। রাঙ্গামাটি সহ গোটা এলা কার জনতা আবাল- বৃদ্ধ - বনিতা আশ্চর্য ভরা শোকে বিমূঢ় ও মূহ্যমান প্রায়।
মতামত