স্বামী নেই। দুই সন্তান শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ঘরে অসুস্থ শাশুড়ি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে তিনজনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন জীবিকার সন্ধানে ছুটছেন নীলফামারীর ডোমারের হাসিনা বেগম।
ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ ঝাক্কুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা বেগম। প্রায় চার বছর আগে স্বামী মুশিয়ারের রহমান মারা যাওয়ার পর থেকেই সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তার ওপর।
হাসিনা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে হাইউল হক (১৯) ও মনি আক্তার (১৪) শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। অপর সন্তান হাবিব ইসলাম (১৯) এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
সংসার চালাতে প্রতিদিন মানুষের বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করেন হাসিনা। পাশাপাশি ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিজমিতে আগাছা পরিষ্কার এবং দিনমজুরের কাজও করেন। দিনভর পরিশ্রম শেষে যে সামান্য অর্থ পান, তা দিয়েই খাবার, পোশাক, চিকিৎসা ও সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেন।
হাসিনা বেগম বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের সব দায়িত্ব আমার ওপর। কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে। কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে প্রতিবন্ধী সন্তানদের খাওয়ানো, গোসল করানো ও দেখাশোনা করতে হয়। তারা নিজেরা চলাফেরা করতে পারে না। সন্তান অসুস্থ হলে ওষুধ কেনার টাকাও অনেক সময় থাকে না।”
তিনি জানান, ২০২৩ সালে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও এখনো তা চালু হয়নি। দুই প্রতিবন্ধী সন্তান অবশ্য প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও এখনো কোনো হুইলচেয়ার পাননি তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে হাসিনা বেগম একাই দুই প্রতিবন্ধী সন্তান ও অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে কঠিন জীবন পার করছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় প্রতিদিন তাকে কাজের জন্য বের হতে হয়।
স্থানীয়রা হাসিনা বেগমের বিধবা ভাতা দ্রুত চালুর পাশাপাশি তার প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য হুইলচেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
হাসিনা বেগমের পাশে দাঁড়াতে চাইলে যোগাযোগ করা যাবে ০১৭৪৩২৪৫১২২ (নগদ) নম্বরে।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “হাসিনা বেগম প্রতিবন্ধী সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি যদি বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করে থাকেন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তা চালুর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম দেওয়ার সুযোগ থাকলে সেটিও দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
মতামত