রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ফেসবুকে সমালোচনা



প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ফেসবুকে সমালোচনা
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ফেসবুকে সমালোচনা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নওটিকা কেশরতা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করা, ক্ষমতার প্রভাব খাটানো এবং শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা করেছেন বলাই মুখোপাধ্যায়। তবে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টটি সম্প্রতি ভাইরাল হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে বলাই মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটি ও সভাপতি না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সাবেক সভাপতি সাফি রাইহানকে প্রভাবিত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়। ওই পোস্টে বিদ্যালয়ের চারটি শূন্য পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পদগুলো হলো পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও আয়া। পোস্টে দাবি করা হয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা মো. এনামুলের স্ত্রী মোছা. আনগুয়ারা বেগম এবং অফিস সহায়ক পদে তাঁর শ্যালক মো. মেহেদী হাসানকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অতীতের তারিখ দেখিয়ে গোপনে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, “আমি অফিসের কাজে বাইরে থাকি। সব সময় ক্লাস করা সম্ভব হয় না। বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে আমাকে সময় দিতে হয়। এ কারণে নিয়মিত স্বাক্ষর করা হয় না। নিয়োগ-বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষ এসব পোস্ট দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার বাবুল কুমার সাহার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোনে ওহোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়টি এইমাত্র জানলাম। তদন্তপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, ফেসবুকে সমালোচনা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নওটিকা কেশরতা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করা, ক্ষমতার প্রভাব খাটানো এবং শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা করেছেন বলাই মুখোপাধ্যায়। তবে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টটি সম্প্রতি ভাইরাল হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে বলাই মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটি ও সভাপতি না থাকার সুযোগে প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সাবেক সভাপতি সাফি রাইহানকে প্রভাবিত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলা হয়। ওই পোস্টে বিদ্যালয়ের চারটি শূন্য পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পদগুলো হলো পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অফিস সহায়ক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও আয়া। পোস্টে দাবি করা হয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা মো. এনামুলের স্ত্রী মোছা. আনগুয়ারা বেগম এবং অফিস সহায়ক পদে তাঁর শ্যালক মো. মেহেদী হাসানকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অতীতের তারিখ দেখিয়ে গোপনে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।

এদিকে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, “আমি অফিসের কাজে বাইরে থাকি। সব সময় ক্লাস করা সম্ভব হয় না। বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে আমাকে সময় দিতে হয়। এ কারণে নিয়মিত স্বাক্ষর করা হয় না। নিয়োগ-বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে প্রতিপক্ষ এসব পোস্ট দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার বাবুল কুমার সাহার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোনে ওহোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন কেটে দেওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়টি এইমাত্র জানলাম। তদন্তপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream