বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

যুদ্ধের গতি বাড়াচ্ছে এআই, ঝুঁকিতে বেসামরিক মানুষের জীবন



যুদ্ধের গতি বাড়াচ্ছে এআই, ঝুঁকিতে বেসামরিক মানুষের জীবন
যুদ্ধের গতি বাড়াচ্ছে এআই, ঝুঁকিতে বেসামরিক মানুষের জীবন

যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা থেকে হামলার পরিকল্পনা, সবখানেই বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার। সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক সেকেন্ড লাগছে কয়েক দিনের বদলে। কিন্তু এখানে সেই প্রশ্নও সামনে আসছে যে ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় বেসামরিক মানুষ মারা গেলে দায় কে নেবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দেশটির এআইনির্ভর সামরিক ব্যবস্থার প্রথম বড় পরীক্ষা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এপ্রিলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়। প্রথম দিনেই হামলা হয় এক হাজার লক্ষ্যবস্তুতে।

এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্যালান্টিরের তৈরি ‘মেভেন স্মার্ট সিস্টেম’। এটি তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। এরপর হামলার বিকল্প ও অস্ত্রের সুপারিশ দেয়। চূড়ান্ত অনুমোদন দেন মানুষ। ব্যবস্থাটির কেন্দ্রে রয়েছে অ্যানথ্রপিকের ক্লড।

পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মেভেন পরীক্ষা করা হয়। তখন অবশ্য নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য দেওয়ার মতো উন্নত সক্ষমতা বাদ রাখা হয়েছিল।

গাজায় ইসরায়েলও এআই ব্যবহার করেছে। ‘হাসবোরা’ ভবন ও অবকাঠামো শনাক্ত করে। ‘ল্যাভেন্ডার’ বেছে নেয় মানুষকে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাভেন্ডার ৩৭ হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করেছিল।

এই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় এসেছে ইরানের মিনাবের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা। ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। অধিকাংশই শিশু। তদন্তে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এআই বিদ্যালয়টিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল—এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

এআইয়ের সুপারিশের নির্ভরযোগ্যতা ‘তথ্য ও ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত অনুমানের ওপর নির্ভর করে’। উচ্চ আস্থাসূচক স্কোর কোনো ব্যক্তিকে যোদ্ধা কিংবা হামলাকে বৈধ প্রমাণ করে না।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহারে সীমা ও মানবিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ভুলের দায় অ্যালগরিদমের নয়; সংশ্লিষ্ট মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া আর সঠিক বিচার এক নয়।

বিষয় : ইরান এআই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


যুদ্ধের গতি বাড়াচ্ছে এআই, ঝুঁকিতে বেসামরিক মানুষের জীবন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা থেকে হামলার পরিকল্পনা, সবখানেই বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার। সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক সেকেন্ড লাগছে কয়েক দিনের বদলে। কিন্তু এখানে সেই প্রশ্নও সামনে আসছে যে ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় বেসামরিক মানুষ মারা গেলে দায় কে নেবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দেশটির এআইনির্ভর সামরিক ব্যবস্থার প্রথম বড় পরীক্ষা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এপ্রিলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়। প্রথম দিনেই হামলা হয় এক হাজার লক্ষ্যবস্তুতে।

এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্যালান্টিরের তৈরি ‘মেভেন স্মার্ট সিস্টেম’। এটি তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে। এরপর হামলার বিকল্প ও অস্ত্রের সুপারিশ দেয়। চূড়ান্ত অনুমোদন দেন মানুষ। ব্যবস্থাটির কেন্দ্রে রয়েছে অ্যানথ্রপিকের ক্লড।

পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মেভেন পরীক্ষা করা হয়। তখন অবশ্য নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য দেওয়ার মতো উন্নত সক্ষমতা বাদ রাখা হয়েছিল।

গাজায় ইসরায়েলও এআই ব্যবহার করেছে। ‘হাসবোরা’ ভবন ও অবকাঠামো শনাক্ত করে। ‘ল্যাভেন্ডার’ বেছে নেয় মানুষকে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাভেন্ডার ৩৭ হাজার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করেছিল।

এই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় এসেছে ইরানের মিনাবের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা। ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। অধিকাংশই শিশু। তদন্তে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এআই বিদ্যালয়টিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল—এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

এআইয়ের সুপারিশের নির্ভরযোগ্যতা ‘তথ্য ও ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত অনুমানের ওপর নির্ভর করে’। উচ্চ আস্থাসূচক স্কোর কোনো ব্যক্তিকে যোদ্ধা কিংবা হামলাকে বৈধ প্রমাণ করে না।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহারে সীমা ও মানবিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ভুলের দায় অ্যালগরিদমের নয়; সংশ্লিষ্ট মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া আর সঠিক বিচার এক নয়।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream