মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৪, হাসপাতালে ৪১



পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৪, হাসপাতালে ৪১
পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৪, হাসপাতালে ৪১

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান জেলায় পেশোয়ারগামী ‘রেহমান বাবা এক্সপ্রেস’ ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার শের শাহ রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি চার যাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফেডারেল গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর অব রেলওয়েজকে (এফজিআইআর)।

পাকিস্তান রেলওয়ের প্রকাশিত হতাহতের তালিকা অনুযায়ী, আহত ৪১ জনের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ জনকে মুলতানের নিশতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৩টি শিশু রয়েছে। এর আগে পাকিস্তান রেলওয়ের মুখপাত্র বাবর আলী ডনকে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

ট্রেনটির চালক রিজওয়ান আব্বাস ডনকে জানান, ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলার সময় শের শাহ স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার মুহূর্তে তিনি হঠাৎ একটি ধাক্কা অনুভব করেন। সিগন্যাল ঠিক ছিল। ব্রেক কষে ট্রেন থামাতে সক্ষম হন। পরে লোকোমোটিভ থেকে নেমে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, যাত্রীবাহী বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। ট্রেনটি সচল ও ত্রুটিমুক্ত ছিল।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহত যাত্রীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তান রেলওয়ের বিমা নীতিমালা অনুযায়ী নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন রেলমন্ত্রী। মুলতানের কমিশনার আমির করিম খানও ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। যাত্রীদের অস্থায়ী আবাসন, পরিবহন, সকালের নাশতা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ৫০০-এর বেশি যাত্রী নিয়ে রেহমান বাবা এক্সপ্রেসের বিকল্প একটি ট্রেন শের শাহ স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। যেসব যাত্রী সড়কপথে যাত্রা অব্যাহত রাখতে চান, তাদের জন্য জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের সহায়তায় পাকিস্তান রেলওয়ের সব প্রধান স্টেশনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার মতো তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং টিকিটের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, লোধরান ও জাহানিয়ান হয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

গত এক বছরে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেললাইন ও ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে পাকিস্তান রেলওয়ের সম্ভাব্য অবহেলা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ১ অক্টোবর শালিমার এক্সপ্রেস ও পাকিস্তান এক্সপ্রেস নামের দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। একই সময়ে গুজর খানের কাছে জাফর এক্সপ্রেসের সঙ্গেও ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় পাকিস্তান রেলওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল্লাহ জানিয়েছিলেন, গত পাঁচ বছরে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি দাবি করেন, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আগস্টে ফিরোজা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে, খানপুর ও লিয়াকতপুরের মধ্যবর্তী স্থানে, ইউসুফওয়ালা কয়লাবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। লুপ লাইনে বালির স্তূপে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্বল ব্রেক অথবা চালকের সময়মতো ব্রেক না করার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

একই দিনে ঝিলাম জেলার কালা গুজরাঁ এলাকায় লাহোর-রাওয়ালপিন্ডি রেলপথে রাওয়াল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এতে রেল চলাচল ব্যাহত হয়। ৪ আগস্ট হাভেলিয়ানগামী হাজার এক্সপ্রেসও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, চালক নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বালির স্তূপে ধাক্কা দিলে ট্রেনের বগি ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন বুল্লে শাহ যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

২৮ জুলাই হায়দরাবাদ-কোটরি সেকশনে লাহোরগামী তেজগম এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। একই দিনে মুজাফফরগড়ের কাছে থল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। ৫ জুলাই খানেওয়ালের কাছে করাচিগামী শালিমার এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়েছিল। এ ছাড়া ২০ জুলাই লাহোরে বুল্লে শাহ যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি কোচ এবং ২২ জুলাই করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের কাছে হাজার এক্সপ্রেসের চারটি যাত্রীবাহী কোচ লাইনচ্যুত হয়।

বিষয় : পাকিস্তান নিহত আহত ট্রেন লাইনচ্যুত রেলমন্ত্রী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৪, হাসপাতালে ৪১

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান জেলায় পেশোয়ারগামী ‘রেহমান বাবা এক্সপ্রেস’ ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার শের শাহ রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি চার যাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফেডারেল গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর অব রেলওয়েজকে (এফজিআইআর)।

পাকিস্তান রেলওয়ের প্রকাশিত হতাহতের তালিকা অনুযায়ী, আহত ৪১ জনের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ জনকে মুলতানের নিশতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৩টি শিশু রয়েছে। এর আগে পাকিস্তান রেলওয়ের মুখপাত্র বাবর আলী ডনকে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

ট্রেনটির চালক রিজওয়ান আব্বাস ডনকে জানান, ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলার সময় শের শাহ স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার মুহূর্তে তিনি হঠাৎ একটি ধাক্কা অনুভব করেন। সিগন্যাল ঠিক ছিল। ব্রেক কষে ট্রেন থামাতে সক্ষম হন। পরে লোকোমোটিভ থেকে নেমে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, যাত্রীবাহী বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। ট্রেনটি সচল ও ত্রুটিমুক্ত ছিল।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহত যাত্রীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তান রেলওয়ের বিমা নীতিমালা অনুযায়ী নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন রেলমন্ত্রী। মুলতানের কমিশনার আমির করিম খানও ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। যাত্রীদের অস্থায়ী আবাসন, পরিবহন, সকালের নাশতা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ৫০০-এর বেশি যাত্রী নিয়ে রেহমান বাবা এক্সপ্রেসের বিকল্প একটি ট্রেন শের শাহ স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। যেসব যাত্রী সড়কপথে যাত্রা অব্যাহত রাখতে চান, তাদের জন্য জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের সহায়তায় পাকিস্তান রেলওয়ের সব প্রধান স্টেশনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার মতো তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং টিকিটের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, লোধরান ও জাহানিয়ান হয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

গত এক বছরে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেললাইন ও ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে পাকিস্তান রেলওয়ের সম্ভাব্য অবহেলা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ১ অক্টোবর শালিমার এক্সপ্রেস ও পাকিস্তান এক্সপ্রেস নামের দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। একই সময়ে গুজর খানের কাছে জাফর এক্সপ্রেসের সঙ্গেও ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় পাকিস্তান রেলওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল্লাহ জানিয়েছিলেন, গত পাঁচ বছরে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি দাবি করেন, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আগস্টে ফিরোজা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে, খানপুর ও লিয়াকতপুরের মধ্যবর্তী স্থানে, ইউসুফওয়ালা কয়লাবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। লুপ লাইনে বালির স্তূপে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্বল ব্রেক অথবা চালকের সময়মতো ব্রেক না করার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

একই দিনে ঝিলাম জেলার কালা গুজরাঁ এলাকায় লাহোর-রাওয়ালপিন্ডি রেলপথে রাওয়াল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এতে রেল চলাচল ব্যাহত হয়। ৪ আগস্ট হাভেলিয়ানগামী হাজার এক্সপ্রেসও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, চালক নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বালির স্তূপে ধাক্কা দিলে ট্রেনের বগি ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন বুল্লে শাহ যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।

২৮ জুলাই হায়দরাবাদ-কোটরি সেকশনে লাহোরগামী তেজগম এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। একই দিনে মুজাফফরগড়ের কাছে থল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। ৫ জুলাই খানেওয়ালের কাছে করাচিগামী শালিমার এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়েছিল। এ ছাড়া ২০ জুলাই লাহোরে বুল্লে শাহ যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি কোচ এবং ২২ জুলাই করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের কাছে হাজার এক্সপ্রেসের চারটি যাত্রীবাহী কোচ লাইনচ্যুত হয়।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream