বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে তেহরানে তিন দেশের বৈঠক

আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে তেহরানে তিন দেশের বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ লক্ষ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির অংশ নেবেন।এ ছাড়া তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ও তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়ে সৌদি আরব আক্রান্ত হওয়ার পর এই প্রথম ইরান ও তিন দেশের জোটের সব সদস্যের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের জোরালো হামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারও অস্থিতিশীল। এ প্রেক্ষাপটে তেহরানের এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ইয়েমেন সংকটের লাগাম টানতে চায়, অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্ক সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রেখে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়া রোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থায় মক্কা চুক্তিভুক্ত এই তিন দেশের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব তেহরানে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন বলেই আশা। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, টাইমস অব ইসরায়েল

সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চার দেশ

পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মাধ্যমে চার দেশ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে।বুধবার কাতারে চার দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ‘বদর মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি, সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে দেশগুলো। পাশাপাশি আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নেও যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো চার দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা এবং প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করা। চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের, কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জওহারি উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে খাজা আসিফ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক সচিবালয়ের প্রধান হালুক গোরগুনও উপস্থিত ছিলেন। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন সমাধান উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের বিকাশে এই সমঝোতা ভূমিকা রাখবে। চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করেনি। সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষাশিল্পে সহযোগিতা ‘বদর’ সমঝোতার আওতায় চার দেশের সহযোগিতার অন্যতম ক্ষেত্র হবে প্রতিরক্ষাশিল্পের উন্নয়ন। এর মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কী কী অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হবে, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হবে কিংবা কোনও যৌথ সামরিক বাহিনী বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। চার দেশের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে কূটনৈতিক সম্পর্ক পাকিস্তানের সঙ্গে কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষ করে কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সক্রিয় হয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটেরও সদস্য। ওই জোটের মূল নীতিতে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর কোনও একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। জোটটির লক্ষ্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা। এর আগে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল কাতার। দেশটি তখন এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে ‘বদর’ সমঝোতার সম্পর্ক কী হবে, কিংবা নতুন চুক্তিটি ওই জোটের কাঠামোর সঙ্গে কোনওভাবে যুক্ত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চার দেশের নতুন এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে প্রতিরক্ষাশিল্প, প্রযুক্তি বিনিময় ও সামরিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতার পরিধি বাড়তে পারে। তবে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, অর্থায়ন এবং ভবিষ্যৎ যৌথ প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পরই এর কার্যকর প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: ডন নিউজ, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি

সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে চার দেশ

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে

পারফর্মিং আর্টসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল চার দিনের সফরে গতকাল শুক্রবার ইসলামাবাদে আসেন। এ–সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিনিধিদলকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার ফজলে লোহানী বাবু। পাকিস্তান সরকারের পক্ষে পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অব দ্য আর্টসের (পিএনসিএ মহাপরিচালক মোহাম্মদ আইয়ুব জামালি ও প্রটোকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আগত প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ও মিউজিশিয়ানরা রয়েছেন। সফরকালে শিল্পীরা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অব দ্য আর্টস (পিএনসিএ) এবং লোক ভির্জায় যথাক্রমে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ কালচারাল সন্ধ্যায় পারফর্ম করবেন।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে

পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৪, হাসপাতালে ৪১

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান জেলায় পেশোয়ারগামী ‘রেহমান বাবা এক্সপ্রেস’ ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার শের শাহ রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি চার যাত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফেডারেল গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর অব রেলওয়েজকে (এফজিআইআর)। পাকিস্তান রেলওয়ের প্রকাশিত হতাহতের তালিকা অনুযায়ী, আহত ৪১ জনের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৮ জনকে মুলতানের নিশতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৩টি শিশু রয়েছে। এর আগে পাকিস্তান রেলওয়ের মুখপাত্র বাবর আলী ডনকে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ট্রেনটির চালক রিজওয়ান আব্বাস ডনকে জানান, ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলার সময় শের শাহ স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার মুহূর্তে তিনি হঠাৎ একটি ধাক্কা অনুভব করেন। সিগন্যাল ঠিক ছিল। ব্রেক কষে ট্রেন থামাতে সক্ষম হন। পরে লোকোমোটিভ থেকে নেমে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, যাত্রীবাহী বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। ট্রেনটি সচল ও ত্রুটিমুক্ত ছিল। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহত যাত্রীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তান রেলওয়ের বিমা নীতিমালা অনুযায়ী নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন রেলমন্ত্রী। মুলতানের কমিশনার আমির করিম খানও ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। যাত্রীদের অস্থায়ী আবাসন, পরিবহন, সকালের নাশতা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ৫০০-এর বেশি যাত্রী নিয়ে রেহমান বাবা এক্সপ্রেসের বিকল্প একটি ট্রেন শের শাহ স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। যেসব যাত্রী সড়কপথে যাত্রা অব্যাহত রাখতে চান, তাদের জন্য জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের সহায়তায় পাকিস্তান রেলওয়ের সব প্রধান স্টেশনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার মতো তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং টিকিটের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, লোধরান ও জাহানিয়ান হয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেললাইন ও ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে পাকিস্তান রেলওয়ের সম্ভাব্য অবহেলা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১ অক্টোবর শালিমার এক্সপ্রেস ও পাকিস্তান এক্সপ্রেস নামের দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। একই সময়ে গুজর খানের কাছে জাফর এক্সপ্রেসের সঙ্গেও ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় পাকিস্তান রেলওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল্লাহ জানিয়েছিলেন, গত পাঁচ বছরে রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি দাবি করেন, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগস্টে ফিরোজা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে, খানপুর ও লিয়াকতপুরের মধ্যবর্তী স্থানে, ইউসুফওয়ালা কয়লাবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। লুপ লাইনে বালির স্তূপে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্বল ব্রেক অথবা চালকের সময়মতো ব্রেক না করার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। একই দিনে ঝিলাম জেলার কালা গুজরাঁ এলাকায় লাহোর-রাওয়ালপিন্ডি রেলপথে রাওয়াল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এতে রেল চলাচল ব্যাহত হয়। ৪ আগস্ট হাভেলিয়ানগামী হাজার এক্সপ্রেসও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, চালক নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বালির স্তূপে ধাক্কা দিলে ট্রেনের বগি ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন বুল্লে শাহ যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। ২৮ জুলাই হায়দরাবাদ-কোটরি সেকশনে লাহোরগামী তেজগম এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। একই দিনে মুজাফফরগড়ের কাছে থল এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। ৫ জুলাই খানেওয়ালের কাছে করাচিগামী শালিমার এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়েছিল। এ ছাড়া ২০ জুলাই লাহোরে বুল্লে শাহ যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি কোচ এবং ২২ জুলাই করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনের কাছে হাজার এক্সপ্রেসের চারটি যাত্রীবাহী কোচ লাইনচ্যুত হয়।

পাকিস্তানে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৪, হাসপাতালে ৪১

প্রথমবার পাকিস্তানের মাটিতে ভ্যাটিকানের শীর্ষ কূটনীতিক

ভ্যাটিকান সিটির শীর্ষ কূটনীতিক আর্চবিশপ পল রিচার্ড গ্যালাহার প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফর শুরু করেছেন। তিনি দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পৌঁছান। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ভ্যাটিকান সিটির কোনো শীর্ষ কূটনীতিকের এটিই প্রথম সফর। খবর আনাদোলু এজেন্সির।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্যালাহার হলি সির (ভ্যাটিকান) রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কবিষয়ক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আগামী শনিবার পর্যন্ত চলা এই সফরে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করবেন গ্যালাহার। বৈঠকে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি, সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দেশটির ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে ভ্যাটিকানের এই শীর্ষ কূটনীতিকের।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্যালাহারের এই সফর পাকিস্তান ও হলি সির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহযোগিতা ও আস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় উভয় পক্ষের যৌথ অঙ্গীকারও প্রতিফলিত হবে।

প্রথমবার পাকিস্তানের মাটিতে ভ্যাটিকানের শীর্ষ কূটনীতিক

কারাবন্দি ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী জনস্রোত

ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চ শুরু করেছেন তার হাজারো সমর্থক। ইমরানের দল পিটিআই সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির নেতৃত্বের সঙ্গে দলটির গভীর বিভাজনের মধ্যে এ কর্মসূচি শুরু হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শাসিত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে রবিবার র‍্যালিটি শুরু হয়। ইসলামাবাদে পৌঁছানোর আগে বিভিন্ন স্থানে যাত্রাবিরতির পরিকল্পনা রয়েছে। মার্চের নেতৃত্বে থাকা প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বলেন, আমি আপনাদের সবাইকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি, তরুণদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি, আপনাদের সেই নেতার জন্য, যিনি কারাগারে বসে আছেন। ২০২২ সালে পার্লামেন্টের মাধ্যমে ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই তার দল ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের মধ্যে এই বিভাজনের শুরু। ইমরান এর জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন, যদিও সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মার্চটি মূলত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরুর কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার দলটির দাবি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলে তা পিছিয়ে যায়। সপ্তাহান্তে সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। দুই বছর আগে পিটিআইয়ের সর্বশেষ বড় আকারের বিক্ষোভ নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছিল। ইসলামাবাদ ও এর আশপাশে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পার্লামেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও বিদেশি দূতাবাস অবস্থিত ইসলামাবাদের সরকারি এলাকা শিপিং কনটেইনার বসিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। সরকার ঘোষণা দিয়েছে, মার্চে অংশগ্রহণকারীদের ইসলামাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, আমরা এটা চিরতরে শেষ করবো। তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে দলটিকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবসা-বাণিজ্য বিঘ্নিত করতে দেওয়া যাবে না। আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন নাকভি। তার ভাষ্য, আফগানিস্তান-সংলগ্ন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ক্রমবর্ধমান জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সন্ত্রাসদমন নীতিতে ইমরানের দল সহযোগিতা করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেঙে যায়। পিটিআই এই ব্যাখ্যা অস্বীকার করে বলেছে, সরকার অন্যায়ভাবে দলটিকে ছাড় দিতে চাপ দিতে চেয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই অঞ্চলে জঙ্গি হামলা বাড়ছে। নাকভি ও সরকারের অন্য মন্ত্রীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইমরানের দলের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার রাষ্ট্রসমর্থিত সন্ত্রাসদমন নীতি অনুসরণে ব্যর্থ হলে আইনি ও সাংবিধানিক বিধানের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

কারাবন্দি ইমরানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী জনস্রোত

ইমরান খানের দলের লংমার্চের প্রথম ধাপের ঘোষণা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চের প্রথম ধাপ খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে শুরু হবে। এ ঘোষণা দিয়েছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।সামা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোহেল আফ্রিদি জানান, দুপুর ১টায় লাক্কি মারওয়াতের গান্দি চৌক থেকে লংমার্চের প্রথম ধাপ শুরু হবে। তিনি জানান, ট্যাংক, ডেরা ইসমাইল খান, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান, উত্তর ওয়াজিরিস্তান, বান্নু ও লাক্কি মারওয়াত থেকে আসা মিছিলও এই কর্মসূচিতে যোগ দেবে। সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর এ ঘোষণা আসে। প্রস্তাবিত লংমার্চ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে কেন্দ্রীয় সরকার ও খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের সহযোগিতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধের সমাধান হয়নি। আফ্রিদির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রোববার রাতে মিছিলটি কারাকের কাছে অবস্থান করবে। ৫ অক্টোবর দুপুরে কারাক থেকে অংশগ্রহণকারীরা মিছিলে যোগ দেবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখান থেকে মিছিল কোহাটের উদ্দেশে রওনা হবে। ৬ অক্টোবর দুপুরে কোহাট, হাঙ্গু, কুররাম ও ওরাকজাই থেকে আসা মিছিল এতে যোগ দেবে। এরপর মিছিল পেশোয়ারের দিকে যাবে এবং মাতানি এলাকায় রাতে অবস্থান করবে। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় পেশোয়ারের বুধ ভের থেকে মিছিল যাত্রা শুরু করবে। পথে খাইবার জেলার অংশগ্রহণকারীরা এতে যোগ দেবেন। পেশোয়ারের অন্যান্য মিছিল কোহাট রোড ব্রিজ ও মোটরওয়ে টোল প্লাজার কাছে মূল মিছিলে যুক্ত হবে। পরে মিছিলটি চরসদ্দা ইন্টারচেঞ্জের কাছে থামবে। ৮ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় চরসদ্দা ইন্টারচেঞ্জ থেকে আবার মিছিল শুরু হবে। এ সময় চরসদ্দা ও মোহমান্দের মিছিল এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা খাইরাবাদে জড়ো হবেন। সেখানেই লংমার্চের পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এদিকে, পিটিআইয়ের এই লংমার্চ ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তার ভাষ্য, সন্ত্রাসবাদ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা না পাওয়ায় সরকারের অবস্থান কঠোর হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পিটিআই ও খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলে আবারও আলোচনা হতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে লংমার্চ প্রত্যাহার করতে হবে। লংমার্চ ঘিরে প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামাবাদে রেঞ্জার্স মোতায়েনের মেয়াদও বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীতে রেঞ্জার্স সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মোতায়েনের অনুমতি ছিল। দুনিয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়াদ বাড়ানোর পর রাজধানীতে প্রায় ৩ হাজার রেঞ্জার্স সদস্য মোতায়েন থাকবেন। সরকার বলেছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কনটেইনার বসানোসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পিটিআই বলেছে, তাদের লংমার্চ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং এটি শান্তিপূর্ণভাবেই পরিচালনা করা হবে।

ইমরান খানের দলের লংমার্চের প্রথম ধাপের ঘোষণা

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকালে বহু দেশের ওয়াকআউট: তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফাঁকা সাধারণ পরিষদ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। নেতানিয়াহু বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে ওঠার সাথে সাথেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দল একযোগে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন।মুহূর্তের মধ্যেই জাতিসংঘের বিশাল অধিবেশন কক্ষের অধিকাংশ আসন খালি হয়ে যায়। ওয়াকআউটে অংশ নেওয়া এবং বয়কটে শামিল হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, আয়ারল্যান্ডসহ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার বহু রাষ্ট্র।   প্রতিনিধিদের হল ত্যাগের সময় নেতানিয়াহু তাদের কটাক্ষ করে "ভণ্ড মানবাধিকার কর্মী" বলে অভিহিত করেন। ওয়াকআউটের পাশাপাশি জাতিসংঘের ভবনের বাইরে নিউইয়র্কের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।ওয়াকআউট করা ও অনুপস্থিত থাকা উল্লেখযোগ্য দেশসমূহ:   এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য: ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, তুরস্ক (তুর্কিয়ে), ওমান, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, মায়ানমার, কিরগিজস্থান, তুর্কমেনিস্তান।  আফ্রিকা: মিসর, সেনেগাল, সুদান, টিউনিসিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, অ্যাঙ্গোলা, কমোরোস, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, আলজেরিয়া, ইরিথ্রিয়া, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মাদাগাস্কার, নাইজার, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, উগান্ডা, লেসোথো, নিরক্ষীয় গিনি, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, কেনিয়া। ইউরোপ: স্পেন, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, সান মারিনো, উত্তর মেসিডোনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল: ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, চিলি, নিকারাগুয়া, পেরু, বলিভিয়া, কিউবা, গায়ানা, পানামা, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, বার্বাডোস, ডোমিনিকা, সেন্ট লুসিয়া, দ্য বাহামাস।   ওশেনিয়া: টুভালু, টোঙ্গা।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকালে বহু দেশের ওয়াকআউট: তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফাঁকা সাধারণ পরিষদ

হুথিদের সামরিক হামলা নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানের কড়া ভাষণ

সৌদি আরবে হুথিদের সামরিক আক্রমণ নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, ‘ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত হামলা এবং লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত পুরো পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে এসেছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের ওপর হুথি বাহিনীর পরিচালনা করা সমস্ত হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। সেই সঙ্গে অঞ্চলে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ স্তরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার রাখার বিষয়ে পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র: ডন

হুথিদের সামরিক হামলা নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানের কড়া ভাষণ

ইমরানের বন্দিত্ব নিয়ে এবার পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি ৭ সাবেক অধিনায়কের

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তিন বছর ধরে কারাগারে বন্দী আছেন। তার এই বন্দিজীবন নিয়ে দেশটির সাতজন সাবেক অধিনায়ক মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। তারা সবাই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। সবাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন; বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলার তাগিদ অনুভব করেই এই চিঠি লিখেছেন’। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘এই (সাবেক অধিনায়কদের) দল জনাব ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলা আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।’ বিষয়টি সম্পূর্ণ পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাপার। চিঠিতে তারা লিখেছেন, মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, কারাবন্দী যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবং ‘রাজনীতি যা–ই হোক না কেন, এটি মানবতার মৌলিক বিষয়’। ইমরানের পক্ষে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের তরফ থেকে আসা এটিই সর্বশেষ আবেদন। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, বর্তমান চিকিৎসাসেবা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল। সেই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়—১. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড—যাতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাও অন্তর্ভুক্ত আছেন—তাকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া, বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। ২. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নিশ্চিত করা। ৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, সে অনুযায়ী চিকিৎসকদের প্রস্তাবিত চিকিৎসা অবিলম্বে প্রদান করা।

ইমরানের বন্দিত্ব নিয়ে এবার পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি ৭ সাবেক অধিনায়কের

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে ১০০ দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ

টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে মোবাইল ডেটা ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত জুন মাসে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। চলমান অস্থিরতার মধ্যেই তিন দফায় অঞ্চলটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১০ আগস্ট শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নতুন সরকার গঠিত হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের প্রভাব বহাল রয়েছে। অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে শিক্ষা বর্ষের সার্বিক অচলাবস্থার কারণে প্রবেশিকা পরীক্ষাসমূহ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস নিশ্চিত করেছে, গত ৫ জুন থেকে এই আংশিক ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই পুরো কাশ্মীর অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব দাবি করলেও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে ৪৫ আসনের আইনসভায় ভারতে বসবাসরত কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়। এই আসনগুলো বাতিলের দাবিতে ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট অ্যাওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (জেকেজেএএসি) আন্দোলন শুরু করলে ৫ জুন সংস্থাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর শুরু হওয়া সহিংস বিবাদে সাতজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিক্ষোভে উত্তাল বেশ কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে বাকি আসনগুলোর ফলাফল নিয়েই নতুন আঞ্চলিক সরকার গঠন করা হয়েছে। সূত্র: অল জাজিরা

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে ১০০ দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ

সেঞ্চুরি ছাড়াই বিরল রেকর্ড ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজে

টেস্ট সিরিজে সেঞ্চুরি ব্যাটসম্যানদের সাফল্যের সবচেয়ে বড় মাপকাঠিগুলোর একটি। কিন্তু  সেই সেঞ্চুরিই দেখা গেল না ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের সদ্য শেষ হওয়া তিন টেস্টের সিরিজে। বরং তিন ম্যাচে একটি শতরান না হয়েও এমন এক রেকর্ড হয়েছে, যা টেস্ট ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। দুই দলের ২৭ ব্যাটসম্যান মিলে ১১২টি ইনিংসে করেছেন দুই হাজার ৪৬০ রান। এসেছে ২০টি ফিফটি, কিন্তু কেউই তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। অর্থাৎ এতো রান ও এতো ফিফটি হওয়ার পরও একটি সেঞ্চুরি না থাকার দিক থেকে এটি টেস্ট ইতিহাসের নতুন রেকর্ড। সেঞ্চুরির সবচেয়ে কাছে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের সৌদ শাকিল। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ৯৭ রানে থেমে যান তিনি। তৃতীয় টেস্টে এজবাস্টনে শান মাসুদ করেন ৯৫। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি হ্যারি ব্রুকের—হেডিংলিতে ৯১ রান। তিন টেস্টের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান এসেছে এজবাস্টনে শেষ ম্যাচে। ম্যাচটিতে দুই দলই একবার করে ৪০০ পেরিয়েছে এবং মোট রান হয়েছে এক হাজার ১৬৫। এই ম্যাচেই এসেছে সিরিজের ২০ ফিফটির ১১টি—ইংল্যান্ডের সাতটি ও পাকিস্তানের চারটি। আইসিসির তথ্যেও তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তানের হয়ে শান মাসুদ, আজান আওয়াইস, বাবর আজম ও রাজাউল্লাহর ফিফটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে সেঞ্চুরি ছাড়া কোনো সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান ও ফিফটির রেকর্ড ছিল ১৯৯৩ সালের পাকিস্তান–জিম্বাবুয়ে সিরিজে। সেই সিরিজে দুই হাজার ২১৩ রান ও ১৮টি ফিফটি হয়েছিল। এবার ৩৩ বছর পর সেই রেকর্ড পেছনে ফেলল ইংল্যান্ড–পাকিস্তান সিরিজ। সেঞ্চুরিবিহীন সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান ও ফিফটির তালিকায় এখন শীর্ষে ইংল্যান্ড–পাকিস্তান মধ্যকার এই সিরিজ। ব্যাট হাতে দুই দলের এমন অদ্ভুত সিরিজের পরও ফলাফলে অবশ্য কোনো দ্বিধা ছিল না। তিন টেস্টেই জিতে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ড।

সেঞ্চুরি ছাড়াই বিরল রেকর্ড ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজে

তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ইসহাক দার ও ফিদানের আলোচনা

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশই ফিলিস্তিনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের ওপর আটটি আরব-ইসলামিক দেশের যৌথ বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সামগ্রিক আঞ্চলিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে উভয় দেশ। বিশেষ করে সৌদি আরব ও মিসরের সঙ্গে সম্মত হওয়া রিজিওনাল ফোর (আর৪) কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ইসহাক দার ও ফিদানের আলোচনা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কে

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো কমিটির বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে অংশ নিতে তারা ইস্তাম্বুলে জড়ো হবেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু অংশ নেবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলিও বৈঠকে যোগ দেবেন। তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির কাজ হলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যৌথ কার্যক্রমে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া। বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাবে। যৌথ কার্যক্রম পরিচালনায় কমিটির সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় কাঠামোর রূপরেখা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো। আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় আগ্রহী অন্য পক্ষগুলোকেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কে

শান্তি ও সহযোগিতা জোরদারে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করবেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা ফারস। বাঘাই জানান, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং  দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করায় পাকিস্তানের ‘আন্তরিক প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই এই সফর। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তেহরান সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সফরে নির্দিষ্ট কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে বা কোনো চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে, তেহরান সেই উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফর দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শান্তি ও সহযোগিতা জোরদারে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

দেশে-বিদেশে ব্যর্থ পাকিস্তান

পাকিস্তান লিডস টেস্টে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে। পাঁচ দিনের ম্যাচে টিকতে পারেনি তিন দিনও তারা। ইংল্যান্ডের কাছে শুক্রবার (২১ আগস্ট) তৃতীয় দিনের চা বিরতির আগেই ইনিংস ও ১০৩ রানের ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে সালমান আলী আগা পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে কোনো জায়গাতেই ভালো করতে পারছে না তাদের দল।সালমান আলী আগা বাবর আজমের চোটের কারণে লিডস টেস্টে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর তিনি বলেন, 'বোলিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং—সব বিভাগেই ইংল্যান্ড আমাদেরকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কোনো বিভাগেই আমরা যথেষ্ট ধারাবাহিক ছিলাম না। ইংল্যান্ডে ধারাবাহিকতা খুব জরুরি, কারণ এখানে বলের পার্শ্বীয় মুভমেন্ট হয়, তাই সব সময় মনোযোগী থাকতে হয়। সেই ব্যাপারটিরই অভাব ছিল। আমরা মনে করি, এই ধারাবাহিকতার অভাবের কারণেই আমাদের এমন পারফরম্যান্স হয়েছে।' পাকিস্তান গত তিন বছরে ১৯ টেস্টের ১৪টিতেই হেরেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের কাছে ঘরে-বাইরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা। সালমান বলেন, 'দেশের বাইরে আমরা ভালো খেলছি না। বিশ্বের কোথাওই আমরা ভালো করতে পারিনি। অবশ্যই এটা উদ্বেগের ব্যাপার। প্রতিটি বৈঠকেই আমরা এ নিয়ে আলোচনা করি। এমনকি দলের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরেও। চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।' তিনি আরও বলেন, 'যেকোনো পাকিস্তানি দলের জন্যই ইংল্যান্ড সফর একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন থেকে এখানে এসেছি আমরা। এমন নয় যে এক মাস আগে এখানে এসেছি; মাত্র এক সপ্তাহ আগেই এসেছি। আপনারা হয়তো এই দুই দলের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু যেকোনো এশীয় দল এখানে এলে শুরুতেই সমস্যায় পড়ে। এখানকার কন্ডিশন এমন নয় যে এক সপ্তাহের মধ্যে মানিয়ে নেওয়া যায়। আমরা চেষ্টা করছি এবং আপনারা দেখবেন পরের ম্যাচে আমরা আরও ভালো খেলবো।'

দেশে-বিদেশে ব্যর্থ পাকিস্তান
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream