রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কে

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কে

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো কমিটির বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে অংশ নিতে তারা ইস্তাম্বুলে জড়ো হবেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু অংশ নেবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলিও বৈঠকে যোগ দেবেন। তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির কাজ হলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যৌথ কার্যক্রমে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া। বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাবে। যৌথ কার্যক্রম পরিচালনায় কমিটির সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় কাঠামোর রূপরেখা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো। আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় আগ্রহী অন্য পক্ষগুলোকেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

শান্তি ও সহযোগিতা জোরদারে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করবেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা ফারস। বাঘাই জানান, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং  দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করায় পাকিস্তানের ‘আন্তরিক প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই এই সফর। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তেহরান সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সফরে নির্দিষ্ট কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে বা কোনো চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় যে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে, তেহরান সেই উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফর দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শান্তি ও সহযোগিতা জোরদারে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

দেশে-বিদেশে ব্যর্থ পাকিস্তান

পাকিস্তান লিডস টেস্টে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে। পাঁচ দিনের ম্যাচে টিকতে পারেনি তিন দিনও তারা। ইংল্যান্ডের কাছে শুক্রবার (২১ আগস্ট) তৃতীয় দিনের চা বিরতির আগেই ইনিংস ও ১০৩ রানের ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে সালমান আলী আগা পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে কোনো জায়গাতেই ভালো করতে পারছে না তাদের দল।সালমান আলী আগা বাবর আজমের চোটের কারণে লিডস টেস্টে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর তিনি বলেন, 'বোলিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং—সব বিভাগেই ইংল্যান্ড আমাদেরকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কোনো বিভাগেই আমরা যথেষ্ট ধারাবাহিক ছিলাম না। ইংল্যান্ডে ধারাবাহিকতা খুব জরুরি, কারণ এখানে বলের পার্শ্বীয় মুভমেন্ট হয়, তাই সব সময় মনোযোগী থাকতে হয়। সেই ব্যাপারটিরই অভাব ছিল। আমরা মনে করি, এই ধারাবাহিকতার অভাবের কারণেই আমাদের এমন পারফরম্যান্স হয়েছে।' পাকিস্তান গত তিন বছরে ১৯ টেস্টের ১৪টিতেই হেরেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের কাছে ঘরে-বাইরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা। সালমান বলেন, 'দেশের বাইরে আমরা ভালো খেলছি না। বিশ্বের কোথাওই আমরা ভালো করতে পারিনি। অবশ্যই এটা উদ্বেগের ব্যাপার। প্রতিটি বৈঠকেই আমরা এ নিয়ে আলোচনা করি। এমনকি দলের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরেও। চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।' তিনি আরও বলেন, 'যেকোনো পাকিস্তানি দলের জন্যই ইংল্যান্ড সফর একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। সম্পূর্ণ ভিন্ন কন্ডিশন থেকে এখানে এসেছি আমরা। এমন নয় যে এক মাস আগে এখানে এসেছি; মাত্র এক সপ্তাহ আগেই এসেছি। আপনারা হয়তো এই দুই দলের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু যেকোনো এশীয় দল এখানে এলে শুরুতেই সমস্যায় পড়ে। এখানকার কন্ডিশন এমন নয় যে এক সপ্তাহের মধ্যে মানিয়ে নেওয়া যায়। আমরা চেষ্টা করছি এবং আপনারা দেখবেন পরের ম্যাচে আমরা আরও ভালো খেলবো।'

দেশে-বিদেশে ব্যর্থ পাকিস্তান

হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসার পর আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে তাকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পিটিআই সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করে আসছেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার কারণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। এর আগে ১৮ আগস্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে সরকার সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার আদালত সেই আবেদন ফেরত পাঠান। ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

হাসপাতাল থেকে আবারও কারাগারে ইমরান খান

পাকিস্তানি নারীর ফাঁদে পড়ে ভারতীয় পাইলট গ্রেপ্তার

পাকিস্তানি নারীর ফাঁদে পড়ে গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করায় ভারতীয়  বিমানবাহিনীর এক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে ধারণা করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে শনিবার (৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই মাস আগে ওই পাইলটকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে অভিযোগে আনা হয়েছে।গ্রেপ্তারের পর পাইলট নিজের জামিনের জন্য কোনো আবেদন করেননি।ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ ওই উইং কমান্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে দিল্লির একটি আদালতের কাছে সোপর্দ করলে আদালত পরবর্তীতে তাকে তিহার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাকরিরত ওই পাইলটকে গত ৩০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় বিমানবাহিনী জানতে পারে এক পাকিস্তানি নারী গোয়েন্দার হানিট্র্যাপে পড়েছেন তিনি।তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই পাইলট হয়ত পাকিস্তানের বড় গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কবলে পড়েছেন।পুলিশের একটি সূত্র বলেছেন, ঐ পাইলটের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করেন ঐ নারী। সে সময় গ্রেপ্তার হওয়া পাইলট মানসিকভাবে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নারীর বার্তা পেয়ে এতে সাড়া দেন।  বিভিন্ন সময় মেসেজ দেওয়া ও ভিডিও কলেও কথা বলেন। তখনই তিনি বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ফাঁস করেন।যদিও কি ধরনের তথ্য ফাঁস করা হয়েছে সেটি উল্লেখ করা হয়নি। তবে তথ্যগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।ভারতীয় তদন্তকারীরা এখন একটি মোবাইল অ্যাপসের ব্যাপারে কাজ করছেন। গ্রেপ্তার ওই পাইলট তার এক সহকর্মীকে ওই অ্যাপসটি ইনস্টল করে দিতে বলেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই অ্যাপসের মাধ্যমে তার মোবাইলের অ্যাকসেস নিয়েছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কটি।তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

পাকিস্তানি নারীর ফাঁদে পড়ে ভারতীয় পাইলট গ্রেপ্তার

মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয়, নতুন প্রতিরক্ষা জোটে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন এক সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পর নিজেদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে নতুন কৌশলগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তি শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিন দেশের যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করাই এই চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসির মিডল ইস্ট ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিচসেন বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদারত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংশয় বাড়ছে।তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানোর পদ্ধতি এবং সংকট মোকাবিলায় বারবার অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এসব উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে নতুন চুক্তির লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে দেওয়া নয়; বরং নিজেদের জন্য অতিরিক্ত কৌশলগত ও নীতিগত বিকল্প তৈরি করা।তোসি ব্যাখ্যা করে বলেন, মূলত ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে সৌদি আরব তার নিরাপত্তা অংশীদারত্বের পরিধি বৃদ্ধি করছে এবং অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে বলে মনে হচ্ছে। এটিই শর্তসাপেক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্ররা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কারণ, কোনো আঞ্চলিক সহযোগীদের ওপর এর প্রভাব কেমন পড়বে, তা না ভেবেই গত ফেব্রুয়ারিতে তারা ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছিল।ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরান জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে।অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির মূল পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করার তেহরানের সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভারী মূল্য চাপিয়ে দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা সত্ত্বেও ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অনেকটাই বজায় রেখেছে। বিপরীতে ওয়াশিংটন তার মিত্রদের পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ জোগাতে হিমশিম খেয়েছে। কারণ, এই আকাশ প্রতিরক্ষার সিংহভাগই ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছিল।যুদ্ধের লাগিয়ে দেওয়ার পর সৃষ্টি পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় দীর্ঘদিনের ওয়াশিংটন-নির্ভরতা আরও বেশি চাপের মুখে পড়েছে।সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্য নীতির অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ব্রেট ম্যাকগার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি পরিবর্তনশীল ও সম্পূর্ণ নতুন শুরুর অধ্যায়।’তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শুক্রবারের এই নিরাপত্তা চুক্তিকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা এবং ইরানকে ঠেকানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ইয়াসমিন ফারুক আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এসব দেশ সবই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। তারা জানে, এমন কোনো কাঠামো নেই, যা যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে।’ফারুক আরও যোগ করেন, এই চুক্তিকে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে পা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা ভুল হবে।বিশ্লেষক ফারুক উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম যখন ইরানে আগ্রাসন চালায়, তার পর থেকেই এই তিন দেশই সাধারণত মধ্যস্থতা ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে।ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক বলেন, এসব দেশের মধ্যে মিল হলো, তারা কেউ-ই আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না। এতে চুক্তিটির গুরুত্ব ‘আদর্শগত প্রতিরোধ’-এর কাছাকাছি বলে মনে করেন তিনি।ফারুক ব্যাখ্যা করেন, যুদ্ধ শেষে ইরান আরও কঠোর এবং তার লক্ষ্য অর্জনে শক্তি প্রয়োগে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।ফারুক বলেন, এখানে শুধুই প্রতিরোধের বিষয় নয়, বরং কৌশলগত সহযোগিতার ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে।

মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয়, নতুন প্রতিরক্ষা জোটে সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, হামলা হলে একসঙ্গে জবাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাক্ষরিত এ চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও জোরদার করা।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি হাউছিদের হামলাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবসহ আশপাশের দেশগুলোতে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে নৌযান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চাইছে রিয়াদ।সৌদি আরবের সরকারি বার্তাসংস্থা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। এর আওতায় সমষ্টিগত নিরাপত্তা জোরদার এবং অঞ্চল ও এর বাইরেও শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে তিন দেশের ‘সমষ্টিগত প্রতিরোধ সক্ষমতা’ আরও শক্তিশালী হবে।তবে তুরস্ক পরে স্পষ্ট করেছে, এ চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দফতরের যোগাযোগ পরিচালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান।দেশটির অপতথ্যবিরোধী সংস্থাও জানিয়েছে, ন্যাটোর মূল অঙ্গীকারসহ তুরস্কের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক জোটগুলোর প্রতি দায়িত্বের সঙ্গে নতুন এই চুক্তির কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই।সৌদি আরবও জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো সামরিক জোট বা সাম্প্রদায়িক বলয় তৈরির উদ্যোগ নয়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা অস্ত্র প্রতিযোগিতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং টেকসই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়।সূত্র: বাসস

 সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, হামলা হলে একসঙ্গে জবাব

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যগণ ও পাকিস্তানি নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।হাইকমিশনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। হাইকমিশনের কর্মকর্তাগণ, সার্ক চেম্বার্স উইমেন এন্টারপ্রেনার কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন হিনা মনসাব খান এবং রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন চৌধুরী আলোচনায় অংশ নেন। /বাসস

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream