মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
এআই সামলাতে ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’

এআই সামলাতে ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে কাজ করার জন্য এক নতুন টাস্কফোর্স গঠন করেছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। বাহিনীর নাম হবে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স।’ এর নেতৃত্ব দেবেন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দেন। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’–এর কাজ হবে এই প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র যাতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারে তা নিশ্চিত করা এবং এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা সমন্বয় করা। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে এআই-এর নাম পরিবর্তন করে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘artificial’ বা ‘কৃত্রিম’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে ‘নকল’ বলে মনে করায়। ট্রাম্প গত সপ্তাহে আরও বলেছিলেন, এআই-এর নিরাপত্তা তদারকির জন্য তিনি একটি বোর্ড গঠন করবেন। শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মকর্তারা তাঁর ভাষায় ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর তিনি এই ঘোষণা দেন। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স (মার্কিন) ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে ভোক্তা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, ধর্মীয় সংগঠন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরবরাহকারী এবং সুপার ইন্টেলিজেন্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা সমন্বয় করবে।’ টাস্কফোর্সে আরও থাকবেন—ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক প্রতিরক্ষা উপসচিব এমিল মাইকেল এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক স্কট কুপার। টাস্কফোর্সটি সরাসরি প্রেসিডেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের কাছে প্রতিবেদন দেবে। প্রযুক্তিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার জন্য শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের, যার মধ্যে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের কর্মকর্তারাও রয়েছেন, ক্রমবর্ধমান চাপের পর এই ঘোষণা এল। গত ৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এআই-এর সুবিধাগুলো এর কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করে। তিনি যুক্তি দেন, প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। অল্টম্যান মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজলেটার ‘ডিকোডেড’কে বলেন, ‘এই প্রযুক্তির সুবিধা এবং মানুষের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্য পৃথিবীর কিছু খারাপ ঘটনা ঘটার বিষয় মেনে নেওয়া উচিত।’ আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মূলত এআই কোম্পানিগুলোকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, স্পেসএক্স ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের স্বাক্ষর রয়েছে। একই দিনে প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে মার্কিন সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থাকে ‘এসআই’ এবং ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহার শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আর ব্যবহার করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং অন্যান্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে এআই-এর পরিবর্তে এসআই ব্যবহার করা হবে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এই নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের যুক্তি, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি আরও উন্নত ধরনের ব্যবস্থাকে বোঝায়, ফলে এই নাম ব্যবহার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে নতুন নাম ব্যবহার শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক ইলন মাস্ক। তিনি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের এআই প্ল্যাটফর্ম স্পেসএক্সএআই-এর নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করা হবে।

এআই নিয়ে সতর্ককারীদের ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে যারা সতর্কবার্তা ছড়াচ্ছে তাদের সমালোচনা করেছেন। ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বলে তিনি উল্লেখ করেন প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ধীর করা নিয়ে যারা কথা বলছেন। আয়ারল্যান্ড সফরের সময় রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, অনেক নেগেটিভ ফোর্স আছে। তারা এমন বিষয় সামনে আনছে, যেগুলো সামনে আনা উচিত নয়। তারা এমন বিষয়ও তুলে ধরছে, যা বাস্তবে ঘটবে না।’ অ্যানথ্রোপিকের সদ্য সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সনের একটি দাবির পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। কক্সন বলেছিলেন, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক এমন মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।   কক্সনের ওই দাবির পর ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ কম্পিউটার সিস্টেমের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই।  ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও এক্সএআইয়ের ইলন মাস্কও এতে সহমত জানিয়েছেন।

এআই নিয়ে সতর্ককারীদের ‘নেগেটিভ ফোর্স’ বললেন ট্রাম্প

এআই দিয়ে তৈরি ১৬ নতুন ভাইরাস

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন গবেষকরা। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জৈব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) নামের বিশেষায়িত এআই মডেল ব্যবহার করে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রচলিত ভাষাভিত্তিক এআইয়ের মতো নয়, এই মডেলগুলোকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।গবেষণাটি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, এআই ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজ ধরনের ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করে। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ল্যাবরেটরিতে পুনরুৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।গবেষকদের মতে, এই ধরনের ব্যাকটেরিওফাজ ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বলেন, সম্পূর্ণ একটি ভাইরাসের জিনোম নকশায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের এটি অন্যতম প্রথম সফল প্রয়োগ। তার ভাষায়, এটি জীববিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে।তবে গবেষণাটি প্রকাশের পরই বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেন। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি-এর গবেষক ডা. টমাস ইংলেসবি ও ডা. মরিটজ হাঙ্কে বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে জরুরি প্রশ্ন তৈরি করছে। তাদের মতে, প্রযুক্তিটি যেন ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে বা জৈব অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।অবশ্য ব্রায়ান হি জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় এমন কোনো ভাইরাস ব্যবহার করা হয়নি, যা মানুষ বা জটিল প্রাণীর জন্য রোগ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণার জন্য কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিতকারী ব্যাকটেরিওফাজ ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুরো কাজই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়েছে।এদিকে, উন্নত এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ওপেনএআই এক অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করে জানায়, পরীক্ষামূলক একটি এআই মডেল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের একটি পরীক্ষামূলক সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি বোঝা এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক জীববিজ্ঞান গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা ও নজরদারি অপরিহার্য।

এআই দিয়ে তৈরি ১৬ নতুন ভাইরাস
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream