রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

এআই দিয়ে তৈরি ১৬ নতুন ভাইরাস


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

এআই দিয়ে তৈরি ১৬ নতুন ভাইরাস
গবেষকরা বলেছেন, নতুন ব্যাকটেরিওফাজ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটি নতুন অস্ত্র হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন গবেষকরা। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জৈব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) নামের বিশেষায়িত এআই মডেল ব্যবহার করে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রচলিত ভাষাভিত্তিক এআইয়ের মতো নয়, এই মডেলগুলোকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

গবেষণাটি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, এআই ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজ ধরনের ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করে। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ল্যাবরেটরিতে পুনরুৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের ব্যাকটেরিওফাজ ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বলেন, সম্পূর্ণ একটি ভাইরাসের জিনোম নকশায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের এটি অন্যতম প্রথম সফল প্রয়োগ। তার ভাষায়, এটি জীববিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে।

তবে গবেষণাটি প্রকাশের পরই বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেন। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি-এর গবেষক ডা. টমাস ইংলেসবি ও ডা. মরিটজ হাঙ্কে বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে জরুরি প্রশ্ন তৈরি করছে। তাদের মতে, প্রযুক্তিটি যেন ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে বা জৈব অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

অবশ্য ব্রায়ান হি জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় এমন কোনো ভাইরাস ব্যবহার করা হয়নি, যা মানুষ বা জটিল প্রাণীর জন্য রোগ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণার জন্য কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিতকারী ব্যাকটেরিওফাজ ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুরো কাজই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়েছে।

এদিকে, উন্নত এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ওপেনএআই এক অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করে জানায়, পরীক্ষামূলক একটি এআই মডেল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের একটি পরীক্ষামূলক সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি বোঝা এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক জীববিজ্ঞান গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা ও নজরদারি অপরিহার্য।

বিষয় : এআই ভাইরাস

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআই দিয়ে তৈরি ১৬ নতুন ভাইরাস

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন গবেষকরা। তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জৈব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) নামের বিশেষায়িত এআই মডেল ব্যবহার করে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রচলিত ভাষাভিত্তিক এআইয়ের মতো নয়, এই মডেলগুলোকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

গবেষণাটি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, এআই ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজ ধরনের ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করে। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ল্যাবরেটরিতে পুনরুৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই ধরনের ব্যাকটেরিওফাজ ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বলেন, সম্পূর্ণ একটি ভাইরাসের জিনোম নকশায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের এটি অন্যতম প্রথম সফল প্রয়োগ। তার ভাষায়, এটি জীববিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে।

তবে গবেষণাটি প্রকাশের পরই বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেন। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি-এর গবেষক ডা. টমাস ইংলেসবি ও ডা. মরিটজ হাঙ্কে বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি নিয়ে জরুরি প্রশ্ন তৈরি করছে। তাদের মতে, প্রযুক্তিটি যেন ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে বা জৈব অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

অবশ্য ব্রায়ান হি জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় এমন কোনো ভাইরাস ব্যবহার করা হয়নি, যা মানুষ বা জটিল প্রাণীর জন্য রোগ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণার জন্য কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিতকারী ব্যাকটেরিওফাজ ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুরো কাজই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়েছে।

এদিকে, উন্নত এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ওপেনএআই এক অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার তথ্য প্রকাশ করে জানায়, পরীক্ষামূলক একটি এআই মডেল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের একটি পরীক্ষামূলক সিস্টেমে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি বোঝা এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক জীববিজ্ঞান গবেষণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর নীতিমালা ও নজরদারি অপরিহার্য।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream