বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

জেরুজালেমে দূতাবাস খুলে ইসরাইলের পাশে কলম্বিয়া



জেরুজালেমে দূতাবাস খুলে ইসরাইলের পাশে কলম্বিয়া
জেরুজালেমে দূতাবাস খুলে ইসরাইলের পাশে কলম্বিয়া

কলম্বিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাস চালু করেছে ইসরাইলের বিতর্কিত জেরুজালেম শহরে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হলো দেশটি, যারা জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনের মাধ্যমে শহরটির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থনের প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দূতাবাস উদ্বোধনের এ ঘটনা ঘটে। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো ইসরাইলে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রেখেছে। তাদের অবস্থান হলো, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের মধ্য দিয়েই জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারিত হওয়া উচিত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার দূতাবাসের অতিথি বইয়ে স্বাক্ষর করার সময় বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। একই সঙ্গে জেরুজালেম শহরের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।’

কলম্বিয়ার নতুন কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা গত জুলাইয়ে জেরুজালেমে দেশের দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে তার বামপন্থি পূর্বসূরির নীতি থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগের সরকার গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছিল।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন। এর মাধ্যমে জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। শহরটিতেই ইসরাইলের পার্লামেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।

ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ছোট দেশ একই পথে হেঁটেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ফিজি, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পাপুয়া নিউগিনি ও প্যারাগুয়ে। জাতিসংঘের সদস্য নয়—এমন কসোভো ও সোমালিল্যান্ডও জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাস হিসেবে বিবেচিত কার্যালয় খুলেছে।   আরও পড়ুনআরও পড়ুনপুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চলছে: মমতা

ইসরাইলের প্রকাশ্য সমর্থক আর্জেন্টিনার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইও তার দেশের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো জেরুজালেমের মর্যাদা। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল এবং পরে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।

এদিকে গত আগস্টে কলম্বিয়ার নতুন কট্টর ডানপন্থি সরকার গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের দাবিকেও স্বীকৃতি দেয়। ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে অঞ্চলটি দখল করে ইসরাইল। ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার ইসরাইলি পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘের অবস্থান অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং বর্তমানে এটি ইসরাইলি সামরিক দখলদারত্বের অধীনে রয়েছে।

বিষয় : ইসরাইল জেরুজালেম

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


জেরুজালেমে দূতাবাস খুলে ইসরাইলের পাশে কলম্বিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কলম্বিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাস চালু করেছে ইসরাইলের বিতর্কিত জেরুজালেম শহরে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হলো দেশটি, যারা জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনের মাধ্যমে শহরটির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থনের প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দূতাবাস উদ্বোধনের এ ঘটনা ঘটে। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো ইসরাইলে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রেখেছে। তাদের অবস্থান হলো, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের চূড়ান্ত সমাধানের মধ্য দিয়েই জেরুজালেমের মর্যাদা নির্ধারিত হওয়া উচিত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার দূতাবাসের অতিথি বইয়ে স্বাক্ষর করার সময় বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। একই সঙ্গে জেরুজালেম শহরের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।’

কলম্বিয়ার নতুন কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা গত জুলাইয়ে জেরুজালেমে দেশের দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে তার বামপন্থি পূর্বসূরির নীতি থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগের সরকার গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছিল।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করেন। এর মাধ্যমে জেরুজালেমের মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক ঐকমত্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। শহরটিতেই ইসরাইলের পার্লামেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।

ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ছোট দেশ একই পথে হেঁটেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ফিজি, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, পাপুয়া নিউগিনি ও প্যারাগুয়ে। জাতিসংঘের সদস্য নয়—এমন কসোভো ও সোমালিল্যান্ডও জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাস হিসেবে বিবেচিত কার্যালয় খুলেছে।   আরও পড়ুনআরও পড়ুনপুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চলছে: মমতা

ইসরাইলের প্রকাশ্য সমর্থক আর্জেন্টিনার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইও তার দেশের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো জেরুজালেমের মর্যাদা। ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল এবং পরে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।

এদিকে গত আগস্টে কলম্বিয়ার নতুন কট্টর ডানপন্থি সরকার গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের দাবিকেও স্বীকৃতি দেয়। ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে অঞ্চলটি দখল করে ইসরাইল। ১৯৮১ সালে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার ইসরাইলি পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

জাতিসংঘের অবস্থান অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং বর্তমানে এটি ইসরাইলি সামরিক দখলদারত্বের অধীনে রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream