ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা বাদে সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে নতুন হামলার হুমকি দিয়েছে। বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যাত্রীদেরকে।
রোববার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে লিখেছেন, ‘বিমানবন্দর ও আকাশসীমাগুলো এখন আমাদের লক্ষ্যবস্তুর আওতাভুক্ত। এগুলো আমাদের বাহিনীর অভিযানের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।’
শনিবার রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত ও কয়েক’শ মানুষ আহত হয়। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের দুই নাগরিক আছেন। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের মাটিতে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে উত্তেজনার পারদ আরও এক ধাপ বাড়ল।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা শনিবারের হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি। তবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের দায়ী করেছে। চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরটিসহ অন্য গুরুত্ব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে হুতিরা। গত বৃহস্পতিবার একই বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন নিহত হন।
একটি কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই শনিবারের ওই ঘটনা ঘটে। এর কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সৌদি জোট। রোববার ইয়েমেনের সানা প্রদেশে সৌদি আরবের দুটি পাল্টা হামলার খবর দিয়েছে হুতিদের নিজস্ব গণমাধ্যম। প্রদেশটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা নিয়ন্ত্রণ করে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাল্টা হামলায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো যোগ দিতে পারি।’
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরের ঘটনায় শনিবার চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মতামত