রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকালে বহু দেশের ওয়াকআউট: তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফাঁকা সাধারণ পরিষদ

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যকালে বহু দেশের ওয়াকআউট: তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফাঁকা সাধারণ পরিষদ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। নেতানিয়াহু বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে ওঠার সাথে সাথেই গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দল একযোগে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন।মুহূর্তের মধ্যেই জাতিসংঘের বিশাল অধিবেশন কক্ষের অধিকাংশ আসন খালি হয়ে যায়। ওয়াকআউটে অংশ নেওয়া এবং বয়কটে শামিল হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, আয়ারল্যান্ডসহ এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার বহু রাষ্ট্র।   প্রতিনিধিদের হল ত্যাগের সময় নেতানিয়াহু তাদের কটাক্ষ করে "ভণ্ড মানবাধিকার কর্মী" বলে অভিহিত করেন। ওয়াকআউটের পাশাপাশি জাতিসংঘের ভবনের বাইরে নিউইয়র্কের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।ওয়াকআউট করা ও অনুপস্থিত থাকা উল্লেখযোগ্য দেশসমূহ:   এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য: ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, তুরস্ক (তুর্কিয়ে), ওমান, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, মায়ানমার, কিরগিজস্থান, তুর্কমেনিস্তান।  আফ্রিকা: মিসর, সেনেগাল, সুদান, টিউনিসিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, অ্যাঙ্গোলা, কমোরোস, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, আলজেরিয়া, ইরিথ্রিয়া, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মাদাগাস্কার, নাইজার, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, উগান্ডা, লেসোথো, নিরক্ষীয় গিনি, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, কেনিয়া। ইউরোপ: স্পেন, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, সান মারিনো, উত্তর মেসিডোনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল: ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, চিলি, নিকারাগুয়া, পেরু, বলিভিয়া, কিউবা, গায়ানা, পানামা, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, বার্বাডোস, ডোমিনিকা, সেন্ট লুসিয়া, দ্য বাহামাস।   ওশেনিয়া: টুভালু, টোঙ্গা।

‘মক্কা চুক্তি’র আলোকে সৌদিকে সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের

তুরস্ক সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। রিয়াদকে ঐতিহাসিক ‘মক্কা চুক্তি’র আলোকেই এ সহায়তা দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে আঙ্কারা।তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আমরা দেখছি সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর গুরুতর আঘাত আসছে। একটি পারস্পরিক চুক্তি তাদের সঙ্গে আমাদের রয়েছে। সৌদি আরবের এখন কিছু সামরিক সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত (টেকনিক্যাল) ক্ষেত্রে। এ ধরনের সহায়তা দিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।”হাকান ফিদান আরও জোর দিয়ে জানান, এই সংকটকালে সৌদি আরবের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে তুরস্ক অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কারিগরি সামরিক সহায়তা পাঠাতে আঙ্কারা পুরোপুরি প্রস্তুত।প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ‘মক্কা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত এই সমঝোতার প্রধান শর্ত অনুযায়ী—স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথভাবে তার মোকাবিলা করা হবে।এর আগে শনিবার হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।হামলার পরপরই রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত আরামকোর একটি জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) ডিপো লক্ষ্য করে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে হুথিরা।এ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচলে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয় এবং আরও কয়েক শ ফ্লাইটের শিডিউল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

‘মক্কা চুক্তি’র আলোকে সৌদিকে সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের

বাব এল-মান্দেবে হুথিদের নিশানায় সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ

হুথি বিদ্রোহীরা বর্তমানে ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা একলেডের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক ভ্যালেনটিন দ্যোতিয়ে। এপি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিপজ্জনক এলাকায় চলাচলের পরিসংখ্যান তুলে ধরে শিপিং তথ্য সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’ জানিয়েছে, হুথিদের তৎপরতা শুরুর আগে বাব এল-মান্দেব দিয়ে দৈনিক ৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, যা কমে ২৫টিতে নেমেছিল। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে গত রোববার সেই সংখ্যা বেড়ে ৪৫টি জাহাজে উন্নীত হয়েছে। বিশ্লেষক ভ্যালেনটিন দ্যোতিয়ে জানান, বর্তমানে হুথিরা কেবল সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট জাহাজে নজর দিলেও সৌদি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তারা ভবিষ্যতে লক্ষ্যবস্তুর পরিধি আরও বাড়াতে পারে। হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি এসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, সৌদি আরব নিজেই ইয়েমেনের জলসীমায় জাহাজ চলাচল বন্ধ করে অন্যায্য অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে, যার জবাবে তারা এই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সূত্র: আল জাজিরা

বাব এল-মান্দেবে হুথিদের নিশানায় সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ

হুথিদের মক্কামুখী হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন দুই ইমাম

হুথি বিদ্রোহীদের মক্কাকে লক্ষ্য করে আক্রমণকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যের ওপর আঘাত এবং একটি ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছেন দুই পবিত্র মসজিদের ইমামগণ। সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মক্কার মসজিদ আল-হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলা শুক্রবারের খুতবায় জানান, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা করা একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। তিনি বলেন, আল্লাহর ঘর ও নবীর মসজিদকে লক্ষ্য বস্তু বানানোর স্পর্ধা যাদের রয়েছে, ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ধ্বংসাত্মক কাজ ঢাকতে হুথিরা ধর্মীয় স্লোগানকে ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা হুথিদের এই আক্রমণগুলো তাদের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকতারই অংশ। এই হামলাগুলো নিরপরাধ মুসলিমদের রক্তপাত ঘটানো এবং শান্তিতে থাকা মানুষকে আতঙ্কিত করার অপচেষ্টা মাত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তাকারী সামরিক জোট জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছটা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় আক্রমণ ছিল। শেখ বালিলা আরও বলেন, এসব হামলা সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্যকে কেবল শক্তিশালীই করবে এবং দেশটি চিরকাল মুসলিমদের কিবলা হিসেবে অটুট থাকবে। সূত্র: সৌদি গেজেট

হুথিদের মক্কামুখী হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন দুই ইমাম

হুথিদের সামরিক হামলা নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানের কড়া ভাষণ

সৌদি আরবে হুথিদের সামরিক আক্রমণ নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, ‘ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত হামলা এবং লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত পুরো পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে এসেছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের ওপর হুথি বাহিনীর পরিচালনা করা সমস্ত হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। সেই সঙ্গে অঞ্চলে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ স্তরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার রাখার বিষয়ে পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র: ডন

হুথিদের সামরিক হামলা নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানের কড়া ভাষণ

মক্কার কাছে হুতির ড্রোন ঠেকাল সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী

একটি হুতি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে। ড্রোনটি মঙ্গলবার মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার ভোরে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ইসলাম ধর্মের দুই পবিত্র স্থান এবং সেখানে থাকা মুসল্লি ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলমান হজ পালনের জন্য সেখানে সমবেত হন। আল-মালিকি দাবি করেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এটি দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ বলেন, মক্কায় হামলার অভিযোগ ‘পুরোনো মিথ্যা’, যা এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে মক্কার ঘটনায় হুতিদের নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের এই জোট ঘটনাটিকে ‘জঘন্য’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান ‘আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে মক্কাসহ আরও কয়েকটি শহর রয়েছে। ইরান-সমর্থিত যোদ্ধাদের এক সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এসব সতর্কতা জারি করা হলো। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে সৌদি আরব আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তা সতর্কতার পর সৌদি আরব ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। মার্কিন নাগরিকদের জন্য জারি করা সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের হুমকির কারণে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ওই এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে মুখ করে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির একটি অংশ পরিবহন করা হয়। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে বেশ কয়েকটি বড় হামলার দাবি করেছে হুতিরা। সোমবার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও করেছে তারা। হুতিদের ভাষ্য, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।  

মক্কার কাছে হুতির ড্রোন ঠেকাল সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী

প্যারিসের কাছে তিন থিম পার্ক নির্মাণে সৌদির বিপুল বিনিয়োগ, বাড়ছে প্রশ্ন

তিনটি বিশাল থিম পার্ক নির্মাণে প্যারিস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেরজি-পন্তোয়াজ এলাকায় সৌদি আরবের প্রায় ছয় বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ফরাসি সরকারের কাছে এটি বড় বিদেশী বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পর্যটন বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, এটি কি শুধুই বিনোদন খাতে বিনিয়োগ, নাকি এর মাধ্যমে সৌদি আরব ইউরোপে নিজের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আরো বাড়াতে চাইছে? ফরাসি গণমাধ্যম ল্য মোঁদ এর সূত্রমতে, গত ২৪ আগস্ট ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান তাদের বৈঠকের সময় সেরজি-পন্তোয়াজে এই বিশাল বিনোদন প্রকল্পের ঘোষণা দেয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে তিনটি বড় থিম পার্কের পাশাপাশি হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র, সাংস্কৃতিক স্থাপনা ও অন্যান্য পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হতে পারে। পুরো প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ছয় বিলিয়ন ইউরো হতে পারে। প্রকল্পটির পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের কিদ্দিয়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বা কিউআইসি। এটি সৌদি আরবের বিশাল সার্বভৌম সম্পদ তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পিআইএফ সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে পর্যটন, বিনোদন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাত গড়ে তুলতে এই তহবিল বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পিআইএফ-এর সম্পদের পরিমাণ ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ছিল। এর ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির প্রভাব বিস্তারেও পিআইএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এই বিপুল অর্থের উৎস নিয়েই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) অভিযোগ করেছে যে সৌদি আরবের পিআইএফ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে উপকৃত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এসব কর্মকাণ্ডকে সহজতর করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। এইচআরডব্লিউ-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের অ্যাডভোকেসি ও যোগাযোগ পরিচালক আহমেদ বেনশেমসিফ্রান্সের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ যত বড়ই হোক না কেন, সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং অতীতে সৌদি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কী ধরনের মানবাধিকার অভিযোগ জড়িত ছিল, সেদিকেও নজর দিতে হবে। মানবাধিকার সংগঠনটির ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে সৌদি পিআইএফ-এর সম্পদ ও কার্যক্রমের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ওই সময় দেশটির বহু ধনী ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রিয়াদের রিটজ-কার্লটন হোটেলে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব সম্পদের একটি অংশ পরবর্তীতে পিআইএফ-এর আর্থিক শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। সৌদি সরকার অবশ্য ওই অভিযানকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সৌদি আরবের বিনিয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কারণে। ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তে সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্ভাব্য দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিভিন্ন অংশ অস্বীকার করেছে। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি যুবরাজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব বিপুল অর্থ ব্যয় করে খেলাধুলা, বিনোদন, পর্যটন ও সংস্কৃতিতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল, গলফ, বক্সিং, ই-স্পোর্টস, চলচ্চিত্র, সংগীত এবং বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে সৌদি অর্থের উপস্থিতি ক্রমেই দৃশ্যমান হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই কৌশলকে অনেক সময় স্পোর্টসওয়াশিং বা খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের বিতর্কিত ভাবমূর্তি আড়াল করার প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছে। বৃহত্তর অর্থে এটিকে সৌদি আরবের সফট পাওয়ার, অর্থাৎ সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সেরজি-পন্তোয়াজের থিম পার্ক প্রকল্প সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ কি না, সেটিই এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়। কারণ ফ্রান্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় দেশে ছয় বিলিয়ন ইউরোর বিনোদন প্রকল্প শুধু অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি তৈরির মাধ্যমও হতে পারে। প্রকল্পটির জন্য যে এলাকাটি বিবেচনা করা হয়েছে, তারও একটি বিশেষ ইতিহাস রয়েছে। সেখানে একসময় মিরাপোলিসনামে একটি বড় থিম পার্ক ছিল। ১৯৮৭ সালে চালু হওয়া মিরাপোলিস ১৯৯১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা সেই এলাকায় আবার একটি বিশাল বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠলে সেরজি-পন্তোয়াজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও প্রকল্পটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। অনেকের মতে, নতুন থিম পার্ক নির্মাণ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, স্থানীয় ব্যবসা লাভবান হবে এবং অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। অন্যদিকে পরিবেশের ওপর চাপ, যানজট, পর্যটকের অতিরিক্ত চাপ এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর বাড়তি বোঝা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশাল এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু থিম পার্ক নয়, এর আশপাশে হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পরিষেবা খাতও সম্প্রসারিত হতে পারে। ফলে সেরজি-পন্তোয়াজ ও আশপাশের এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত পার্কগুলোর একটি জাপানি জনপ্রিয় মাঙ্গা ও অ্যানিমেশন সিরিজ ড্রাগন বল-কে কেন্দ্র করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের অন্যতম বড় অ্যানিমেশনভিত্তিক বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত নকশা, লাইসেন্স, নির্মাণের সময়সূচি এবং অর্থায়নের কাঠামো এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এই কারণেই ছয় বিলিয়ন ইউরোর ঘোষণাকে এখনই সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদন, পরিবেশগত মূল্যায়ন, জমি ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব চূড়ান্ত হওয়ার পরই এর প্রকৃত রূপ পরিষ্কার হবে। ফ্রান্সের জন্য বিষয়টি তাই একদিকে অর্থনৈতিক সুযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। বিপুল বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও পর্যটন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একই সাথে বিনিয়োগের অর্থের উৎস, সৌদি আরবের মানবাধিকার রেকর্ড এবং এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক প্রভাব তৈরির সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হবে। সৌদি আরবের জন্যও ফ্রান্সে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক। পিআইএফ ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রীড়া, প্রযুক্তি, বিনোদন ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করছে। ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি ফ্রান্সে একটি বড় বিনোদন প্রকল্প প্রতিষ্ঠা হলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উপস্থিতি যেমন বাড়বে, তেমনি দেশটির নতুন আধুনিক ভাবমূর্তিও ইউরোপীয় দর্শকদের কাছে আরও দৃশ্যমান হবে। এখানেই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল আপত্তি। তাদের প্রশ্ন, একটি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা চলার সময় সেই দেশের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের অর্থে ইউরোপে বিশাল বিনোদন প্রকল্প গড়ে উঠলে সেটিকে শুধু ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত কি না। অন্যদিকে ফরাসি সরকারের যুক্তি হলো, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ফ্রান্সের ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও মানবাধিকার মূল্যবোধ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ফ্রান্সের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সেরজি-পন্তোয়াজে সৌদি অর্থায়নে থিম পার্ক শেষ পর্যন্ত নির্মিত হলে এটি শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র হবে না। এটি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর, পিআইএফ-এর বৈশ্বিক সম্প্রসারণ, ইউরোপে সৌদি সাংস্কৃতিক উপস্থিতি এবং দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের কৌশলের একটি দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তাই ছয় বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু শুধু অর্থ নয়। প্রশ্ন রয়েছে—অর্থের উৎস কী, সেই অর্থ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, বিনিয়োগের বিনিময়ে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হবে এবং ফ্রান্স এই বিনিয়োগ গ্রহণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও স্বচ্ছতার বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব দেবে। সেরজি-পন্তোয়াজের ভবিষ্যৎ থিম পার্ক তাই একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনার গল্প, অন্যদিকে সৌদি আরবের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের নতুন অধ্যায়। প্রকল্পটি বাস্তবে কতটা বড় হয় এবং এর সাথে অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি সৌদি আরবের সফট পাওয়ার কতটা বিস্তৃত হয়, তা সময়ই বলে দেবে।

প্যারিসের কাছে তিন থিম পার্ক নির্মাণে সৌদির বিপুল বিনিয়োগ, বাড়ছে প্রশ্ন

মদিনায় মিলল বিরল খনিজের বিশাল ভাণ্ডার

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন রেয়ার আর্থ মিনারেলস বা বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়াম আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন। এই আবিষ্কারের ঘোষণা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনের ৭০ তম নিয়মিত অধিবেশনে দেওয়া হয়। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাবাল সাইদ এলাকায় পরিচালিত অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণার ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে বিরল মৃত্তিকা উপাদানের উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় ঘনত্ব পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আনুষ্ঠানিক হওয়ার কয়েক মাস পর এই তথ্য প্রকাশ করা হলো। গত ২২ জুলাই মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এসব চুক্তি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশের সুযোগও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান বলেন, ‘মদিনার জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় আনুমানিক ১১ কোটি টন আকরিকের সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে বিরল মৃত্তিকা খনিজের, বিশেষ করে ভারী উপাদানগুলোর, উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। পাশাপাশি ইউরেনিয়ামেরও সম্ভাবনাময় ঘনত্ব পাওয়া গেছে।’ মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর এই উদ্যোগ আরও গতি পায়। ওই সফরের সময় দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা আরও গভীর করে। এর মধ্যে সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মা’আদিন এবং মার্কিন কোম্পানি এমপি ম্যাটেরিয়ালসের মধ্যে অংশীদারত্বও ছিল। ওই সফরের ফলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও ইউরেনিয়াম নিয়ে কৌশলগত সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি হয়। এর আওতায় সৌদি আরবে একটি নতুন বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন করার বিষয়ে সম্মত হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। এই প্রকল্পে মা’আদিনের নিয়ন্ত্রণমূলক ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকবে। এর অংশীদার হবে এমপি ম্যাটেরিয়ালস। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল মৃত্তিকার একমাত্র খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিচালনা করে এই মার্কিন কোম্পানিটি। মদিনা অঞ্চলে জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাইদ। এলাকাটি এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত হিসেবে পরিচিত। মার্কিন থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি শিল্প ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মা’আদিনের দেওয়া হিসাবের ভিত্তিতে জাবাল সাইদকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিরল মৃত্তিকা খনিজের মজুত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়াম। এ ছাড়া আরও প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা বিরল মৃত্তিকা উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিওডিমিয়াম ও প্রসিওডিমিয়াম। একই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। বিশ্লেষণটি বলছে, বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামের এই সমন্বয় সৌদি আরবকে নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি চক্র গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এসব উপাদান রপ্তানিও করতে পারে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে আবিষ্কৃত বিরল মৃত্তিকা উপাদানের মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এই মূল্য ৯০ শতাংশ বেড়েছে। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপের গবেষণায় উন্নত পর্যায়ের অনুসন্ধানের জন্য দুটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় আনুমানিক ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মদিনায় মিলল বিরল খনিজের বিশাল ভাণ্ডার

হুথিদের হামলায় কেঁপে উঠল সৌদির দক্ষিণাঞ্চল

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন ইয়েমেনের হাউছিদের চালানো একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায়। মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন হুথিবিরোধী সামরিক জোট এ তথ্য জানিয়েছে। জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুথি মিলিশিয়ারা দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র : বাসস

হুথিদের হামলায় কেঁপে উঠল সৌদির দক্ষিণাঞ্চল

হুতিদের ঠেকাতে গিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীর ভিন্ন চিত্র

ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো ইরান-সমর্থিত হুতিদের দখল ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। তাদের বাহিনীর তালিকায় এমন বিপুলসংখ্যক সেনার নাম ছিল, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এ তথ্য গতকাল শনিবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন এক পশ্চিমা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, এসব ‘ঘোস্ট নেম’ বা ভুতুড়ে নামের সেনারাও বেতন পেতেন। এর ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বেশি বড় মনে হতো। কিন্তু বাস্তবে সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা কাগজে দেখানো সংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ছিল বলে ওই সূত্র জানিয়েছেন। হুতিদের মোখা দখলের সময় ইয়েমেনি বাহিনী কেন কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, তা নিয়ে দায় চাপানো হচ্ছে ইয়েমেনের নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওপরও। সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন পক্ষের আলাদা আলাদা দায় রয়েছে। সিএনএনের এক আঞ্চলিক সূত্র মোখার পতনকে ‘সৌদি-আমেরিকানদের ভয়াবহ মাত্রার ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘এবার ব্যর্থতা ইয়েমেনিদের নয়। গতকাল সারাদিন সৌদি সমর্থনকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিমান হামলাও হয়নি, যদিও প্রতি মিনিটের পরিস্থিতি তাদের জানানো হচ্ছিল।’ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা অগ্রসর হতে পারে এমন আশঙ্কায় কয়েক সপ্তাহ আগেই সৌদি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এমনকি যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমান কমান্ডের কর্মকর্তাদেরও মোতায়েন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘সৌদিরা ইয়েমেনিদের বাসের নিচে ছুড়ে দিয়েছে।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমকে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, ‘পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠছে।’ ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, সেন্টকম তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে।’ কিন্তু সেই বিমান সহায়তা শেষ পর্যন্ত আসেনি। হুতিদের হামলার দিন বৃহস্পতিবার সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সমন্বয় বৈঠকের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন দুটি সূত্র। সেন্টকম অবশ্য ওই সফর হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি। তবে সিএনএন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক সদস্যরা ইয়েমেনে গঠিত নতুন একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ইরান হুতিদের হামলায় সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর এই যৌথ বাহিনী কমান্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার মূল কারণ ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। তিনি আরব উপদ্বীপ নিয়ে মার্কিন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। বাশা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি হুতিবিরোধী জোটের আরও গভীর একটি সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। এখানে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইয়েমেনে কোনো ঐক্যবদ্ধ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, পশ্চিম উপকূলের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা সম্পর্কে সবাই জানত। দেয়ালে লেখা ছিল খুবই স্পষ্ট।’ এরপর কী ঘটতে পারে জানতে চাইলে বাশা ধারণা করেন, হুতিরা পূর্ব দিকে আরও অগ্রসর হবে এবং ইয়েমেনের আরও ভেতরে ঢুকে পড়বে। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ স্যাটেলাইট এবং ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি অর্থাৎ উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা ছবি থেকে দেখছি...হুতিরা সেনা ও সামরিক শক্তি সংগঠিত করছে।’

হুতিদের ঠেকাতে গিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীর ভিন্ন চিত্র

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী তখন লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব এল–মান্দেবের প্রবেশদ্বারের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক সেই সময়েই এই ফোনকল হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—ট্রাম্প এমবিএসের ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা হুতিরা দখল করে নেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির আরও কাছে চলে গেছে। এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এর পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণও যদি হুতিদের হাতে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির জন্য তেহরান আরও একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার পেতে পারে। ইয়েমেনে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ে সৌদি আরবকে সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব সফর করেছেন। সৌদি দূতাবাস ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় জুলাইয়ে। ওই সময় রিয়াদ ইরানের একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। বিমানটিতে হুতিদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তারা সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্য থেকে ইয়েমেনে ফিরছিলেন। এরপর এমবিএস ট্রাম্পের কাছে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ হামলার জন্য সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প তাকে সমর্থন জানান। এর জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হুমকির মুখে পড়ে। পরে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা বাড়িয়ে দেয়। জবাবে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য সৌদি আরবের এই অনুরোধ জুলাইয়ের অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তন। ওই সময় রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুতিদের মোকাবিলা করতে পারবে। তবে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় সহায়তা চাইতে শুরু করে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা তাদের সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশ হলো মার্কিন বাহিনীকে ইরান ও হরমুজ প্রণালিতে কেন্দ্রীভূত রাখা এবং আরেকটি সামরিক ফ্রন্ট খোলা এড়িয়ে চলা। বৃহস্পতিবার হুতিরা উপকূলীয় শহর মোখার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী পিছু হটতে থাকলে এমবিএস ট্রাম্পকে ফোন করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফোনে তিনি পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর এমবিএস আবারও ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরবে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন। তারা সেখানে অ-সামরিক বা নন-কাইনেটিক সহায়তা দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো লোহিত সাগরকে উন্মুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাতের দায়িত্ব আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জোরদার করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে আমরা সৌদি আরব এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

হজযাত্রীদের সেবা উন্নত করতে এআই ব্যবহার বৃদ্ধি সৌদি আরবের

হজযাত্রীদের সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় এসব প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। সোমবার টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা য়ায়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘নাজুক এআই’ চালুর পর থেকে ২০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী এ সেবা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে শুধু গত মাসেই সেবাটি ব্যবহার করেছেন ৩ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ। ১৮০টির বেশি ভাষায় ভয়েস সুবিধাসহ সেবাটি চালু রয়েছে।  জানা যায়, ডিজিটাল মুত্তাওয়িফ এক মাসে ২০ লাখের বেশি বার ব্যবহার করা হয়েছে। ১৪ লাখের বেশি এ সেবার মাধ্যমে হাজি ডিজিটালি তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করেছেন। নুসুক এআই সেবার জন্য সৌদি ডেটা অ্যান্ড এআই অথরিটি (এসডিএআইএ) থেকে এআই এথিকস মার্কও পেয়েছে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের সেবা আরও উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন পূর্বাভাস ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে। একইসঙ্গে হাজিদের চলাচল ও দলভিত্তিক ব্যবস্থাপনার জন্য স্মার্ট প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ এবং গেস্টস অব আল্লাহ সার্ভিস প্রোগ্রামের আওতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

হজযাত্রীদের সেবা উন্নত করতে এআই ব্যবহার বৃদ্ধি সৌদি আরবের

সৌদিতে রমজানের দিনক্ষণ নিয়ে আগাম হিসাব

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতি ও সময় গণনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস সৌদি আরবে ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) শুরু হতে পারে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী। তবে রমজান শুরুর বিষয়টি হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরির রমজান হবে ২০২৭ সালের রমজানটি। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে সৌদি আরবে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, যদি ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে সেদিন এশার নামাজের পর থেকে তারাবি শুরু হবে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে প্রথম রোজা। তবে মেঘলা আকাশ বা অন্য কোনো কারণে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা হবে এবং সে ক্ষেত্রে রোজা শুরু একদিন পিছিয়ে যাবে। সৌদি আরবসহ গোটা মুসলিম বিশ্বে রমজানের আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য চাঁদ দেখা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা কেবল একটি পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয় এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সাধারণত সৌদি আরবের পরদিন বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশে ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ৯ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার)। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

সৌদিতে রমজানের দিনক্ষণ নিয়ে আগাম হিসাব

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কে

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো কমিটির বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে অংশ নিতে তারা ইস্তাম্বুলে জড়ো হবেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগ্লু অংশ নেবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ বিন হামেদ আল-রুয়াইলিও বৈঠকে যোগ দেবেন। তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির কাজ হলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যৌথ কার্যক্রমে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া। বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাবে। যৌথ কার্যক্রম পরিচালনায় কমিটির সচিবালয় ও প্রয়োজনীয় কাঠামোর রূপরেখা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর লক্ষ্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো। আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় আগ্রহী অন্য পক্ষগুলোকেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক হবে তুরস্কে

জেদ্দা বন্দর ও রিয়াদ মেট্রো নিয়ে সৌদি-ফ্রান্সের বড় বাণিজ্যিক চুক্তি

প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সোমবার (২৪ আগস্ট) ফ্রান্স সফরের সময় চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় জেদ্দা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং রিয়াদ মেট্রোর জন্য নতুন ট্রেন সরবরাহ করা হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিজে প্রাসাদ জানিয়েছে, ফরাসি প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম ও আলস্টমের সৌদি আরবের সাথে চুক্তিগুলোর মোট মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো। এসব চুক্তিকে সৌদি আরবের পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটিকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তির একটি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম এবং জেদ্দা বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)-এর মধ্যে। এর আওতায় লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত জেদ্দা বন্দরে একটি নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটিতে প্রায় ৪৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৩৭২ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করা হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে জেদ্দা বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন টার্মিনালে গভীর পানির নতুন জাহাজ নোঙরের স্থান বা জেটি নির্মাণ করা হবে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কনটেইনারবাহী জাহাজগুলোও সেখানে সরাসরি নোঙর করতে পারবে। পাশাপাশি বন্দরের কনটেইনার ওঠানামা ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বছরে প্রায় ২৬ লাখ টিইইউ বাড়বে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ২৬ লাখ ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সমমানের কনটেইনার অতিরিক্তভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। সিএমএ সিজিএম জানিয়েছে, এই অংশীদারত্ব জেদ্দা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে সৌদি আরবের অবস্থান আরো শক্তিশালী করবে। প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার সাথে প্রকল্পটিকে যুক্ত করেছে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থানের কারণে জেদ্দা বন্দর ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে জেদ্দা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ সৌদি আরবের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদের গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও বড় ধরনের চুক্তি হয়েছে। ফরাসি রেল ও পরিবহন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলস্টম এবং রয়্যাল কমিশন ফর রিয়াদ সিটির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, রিয়াদ মেট্রোর ৩ ও ৬ নম্বর লাইনের জন্য অতিরিক্ত মেট্রো ট্রেন সরবরাহ করবে আলস্টম। এ চুক্তির মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। রিয়াদ মেট্রো সৌদি আরবের অন্যতম বড় নগর পরিবহন প্রকল্প। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মেট্রো ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে সৌদি সরকার। অতিরিক্ত ট্রেন যুক্ত হলে বিদ্যমান মেট্রো লাইনগুলোর যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। তবে আলস্টমের সাথে সৌদি আরবের সহযোগিতা শুধু ট্রেন সরবরাহে সীমাবদ্ধ থাকছে না। দুই পক্ষ রিয়াদ মেট্রোর প্রস্তাবিত ৭ নম্বর লাইনের জন্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরে মেট্রো ট্রেনের সংযোজন বা অ্যাসেম্বলি কারখানা স্থাপনের বিষয়েও একটি চুক্তি করেছে। নতুন কারখানাটি রিয়াদ মেট্রোর ৭ নম্বর লাইনের জন্য ট্রেন সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আলস্টম ও রিয়াদ নগরীর রয়্যাল কমিশন জানিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবে আলস্টমের বিনিয়োগ ও স্থানীয় শিল্প সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং রেল খাতে দক্ষ লোকবল তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর সাথেও এসব প্রকল্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে পর্যটন, শিল্প, পরিবহন, লজিস্টিকস ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি। ফ্রান্সের সাথে সাম্প্রতিক চুক্তিগুলো সেই কৌশলেরই আরেকটি উদাহরণ। জেদ্দা বন্দরের সম্প্রসারণ সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যকে এগিয়ে নেবে। একইসাথে রিয়াদ মেট্রোর সম্প্রসারণ রাজধানীর নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক করার সুযোগ তৈরি করবে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্যারিস সফরের সময় স্বাক্ষরিত এসব চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের মধ্যে পরিবহন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরো গভীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তি সৌদি আরবের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও পরিবহন রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

জেদ্দা বন্দর ও রিয়াদ মেট্রো নিয়ে সৌদি-ফ্রান্সের বড় বাণিজ্যিক চুক্তি

সৌদিতে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, ৯ মরদেহ আসছে বৃহস্পতিবার

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হবে। এ তথ্য বুধবার (২৬ আগস্ট) জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে আগামীকাল  ৯ জনের মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৪০ (বিজি ৩৪০) ফ্লাইটে তাদের মরদেহ বিকেল ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করবেন।

সৌদিতে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, ৯ মরদেহ আসছে বৃহস্পতিবার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream