সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সংগৃহীত

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। 

সোমবার (১৯ অ‌ক্টোবর) বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়। অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা। আকাশপথের যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ও সিথি আক্তার।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠিতে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগে থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাদের পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও ওই রায় বহাল রাখে।

তবে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না কিংবা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তার অনুরোধে আটককারী দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবিলম্বে অবহিত করতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। তবে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা জানা যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দুই বাংলাদেশির বিষয়ে আগে থেকে বাংলাদেশ মিশনকে কিছু না জানানোর কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়া গেলে তাদের পরিচয় ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

বিষয় : সৌদি আরব মৃত্যুদণ্ড

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহ যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। 

সোমবার (১৯ অ‌ক্টোবর) বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়। অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা। আকাশপথের যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ও সিথি আক্তার।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠিতে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগে থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাদের পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও ওই রায় বহাল রাখে।

তবে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না কিংবা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তার অনুরোধে আটককারী দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবিলম্বে অবহিত করতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। তবে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা জানা যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দুই বাংলাদেশির বিষয়ে আগে থেকে বাংলাদেশ মিশনকে কিছু না জানানোর কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়া গেলে তাদের পরিচয় ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream