সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পূর্ণ সেবা শেষ সাঁইজির আখড়া ছেড়ে ফেরার পালা, বিদায়ের সুরে ভারী সাধু-ভক্তদের মন



পূর্ণ সেবা শেষ সাঁইজির আখড়া ছেড়ে ফেরার পালা, বিদায়ের সুরে ভারী সাধু-ভক্তদের মন

 তিন দিনের সাধুসঙ্গ, লালনগীতি আর আত্মার টানে গড়ে ওঠা এক আবেগের বন্ধন। এরপর বিদায়ের পালা। পুণ্যসেবা শেষে প্রিয় আখড়াবাড়ি ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন সাধু, বাউল ও লালনভক্তরা। তবে বিদায়ের এই মুহূর্তে তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠছে বিষণ্নতা, মনে জমছে আবারও ফিরে আসার আকুলতা। মরমি সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে বসেছিল তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধু-ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল আখড়াবাড়ির প্রাঙ্গণ। লালনগীতি, সাধুসঙ্গ আর ভাবের আদান-প্রদানে কেটেছে উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত। উৎসবের শেষ দিনে পুণ্যসেবা গ্রহণের পর শুরু হয় বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি। কেউ গুছিয়ে নিচ্ছেন নিজের ছোট্ট পুঁটলি, কেউ বিদায় নিচ্ছেন দীর্ঘদিনের পরিচিত সাধুসঙ্গীদের কাছ থেকে। আবার কেউ নীরবে তাকিয়ে থাকছেন সেই আখড়াবাড়ির দিকে, যেখানে কয়েকটি দিন কাটিয়েছেন আত্মার প্রশান্তি আর মনের টানে।

সাধুদের কাছে এই বিদায় কেবল একটি উৎসবের সমাপ্তি নয় যেন প্রিয় এক আশ্রয় থেকে সাময়িক বিচ্ছেদ। যেখানে মিলেছে মনের মানুষ, ভাগাভাগি হয়েছে ভাবের কথা, আর লালন সাঁইয়ের দর্শনে খুঁজে পেয়েছেন জীবনের গভীর অর্থ। তাই ফিরে যাওয়ার মুহূর্তেও তাঁদের মনে রয়ে যায় বিষাদ, আর হৃদয়ে জন্ম নেয় আবারও ছেঁউড়িয়ায় ফিরে আসার প্রত্যাশা। লালন সাঁইয়ের মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করে সাধু-ভক্তরা ফিরে যাচ্ছেন নিজ নিজ ঠিকানায়। শেষ হচ্ছে তিন দিনের স্মরণোৎসব, কিন্তু শেষ হচ্ছে না মনের মানুষের খোঁজ, ভাবের টান আর আখড়াবাড়ির প্রতি সেই গভীর মায়া।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


পূর্ণ সেবা শেষ সাঁইজির আখড়া ছেড়ে ফেরার পালা, বিদায়ের সুরে ভারী সাধু-ভক্তদের মন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

 তিন দিনের সাধুসঙ্গ, লালনগীতি আর আত্মার টানে গড়ে ওঠা এক আবেগের বন্ধন। এরপর বিদায়ের পালা। পুণ্যসেবা শেষে প্রিয় আখড়াবাড়ি ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন সাধু, বাউল ও লালনভক্তরা। তবে বিদায়ের এই মুহূর্তে তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠছে বিষণ্নতা, মনে জমছে আবারও ফিরে আসার আকুলতা। মরমি সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে বসেছিল তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধু-ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল আখড়াবাড়ির প্রাঙ্গণ। লালনগীতি, সাধুসঙ্গ আর ভাবের আদান-প্রদানে কেটেছে উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত। উৎসবের শেষ দিনে পুণ্যসেবা গ্রহণের পর শুরু হয় বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি। কেউ গুছিয়ে নিচ্ছেন নিজের ছোট্ট পুঁটলি, কেউ বিদায় নিচ্ছেন দীর্ঘদিনের পরিচিত সাধুসঙ্গীদের কাছ থেকে। আবার কেউ নীরবে তাকিয়ে থাকছেন সেই আখড়াবাড়ির দিকে, যেখানে কয়েকটি দিন কাটিয়েছেন আত্মার প্রশান্তি আর মনের টানে।

সাধুদের কাছে এই বিদায় কেবল একটি উৎসবের সমাপ্তি নয় যেন প্রিয় এক আশ্রয় থেকে সাময়িক বিচ্ছেদ। যেখানে মিলেছে মনের মানুষ, ভাগাভাগি হয়েছে ভাবের কথা, আর লালন সাঁইয়ের দর্শনে খুঁজে পেয়েছেন জীবনের গভীর অর্থ। তাই ফিরে যাওয়ার মুহূর্তেও তাঁদের মনে রয়ে যায় বিষাদ, আর হৃদয়ে জন্ম নেয় আবারও ছেঁউড়িয়ায় ফিরে আসার প্রত্যাশা। লালন সাঁইয়ের মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করে সাধু-ভক্তরা ফিরে যাচ্ছেন নিজ নিজ ঠিকানায়। শেষ হচ্ছে তিন দিনের স্মরণোৎসব, কিন্তু শেষ হচ্ছে না মনের মানুষের খোঁজ, ভাবের টান আর আখড়াবাড়ির প্রতি সেই গভীর মায়া।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream