শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে এসআরবি-১০। এর অংশ হিসেবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার ওয়েস্ট এন্ড পাড়া মন্দির পরিদর্শন করেন এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি সাংবাদিক ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এসআরবি-১০-এর বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংস্থাটির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ বছর প্রায় ১ হাজার ৮৪১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে এসআরবি-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের আওতাধীন রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০১টি মণ্ডপ।
পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আওতায় ১৫টি পিকআপে টহল, ২৮টি মোটরসাইকেল টহল এবং সাদাপোশাকে সদস্যদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কমান্ডো, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও ড্রোন দলের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপের আশপাশে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে গোয়েন্দা শাখা স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে—এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধেও সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
নিরাপত্তার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ এলাকায় জরুরি সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিদর্শন করছেন সংস্থাটির সদস্যরা।
পূজাকে কেন্দ্র করে যানজট ও অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এসআরবি-১০। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটির মোবাইল টিম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতও প্রস্তুত রয়েছে।
এসআরবি-১০-এর পক্ষ থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মতামত