জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বাজারজাতের চেষ্টার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় জবাই করা গরুর মাংস জব্দ করে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের বড়তারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম, এন্তাজুল, আলাউদ্দিন ও রবিউল ইসলান নামে চারজনকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঁশথুপী গ্রামের রবিউল ইসলামের একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। পরে রাতের আঁধারে অটোভ্যানে করে জবাই করা ওই গরু বড়তারা গ্রামে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের নজরে আসে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।
খবর পেয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুর রউফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় অসুস্থ গরু জবাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জবাই করা গরুর মাংস জব্দ করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়, যাতে তা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার বা বাজারজাত করা না যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রসিকিউটর ও ক্ষেতলাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক মিয়া বলেন, অসুস্থ গরু জবাইয়ের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অসুস্থ পশুর মাংস বিক্রি বা বাজারজাত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে মাংস জব্দ করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অসুস্থ পশু জবাই ও এর মাংস বাজারজাত করা প্রতিরোধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুর রউফ বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি জবাই করা পশুর মাংস জব্দ করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
মতামত